মু.দি.আলম, মিরসরাই(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ডেসটিনির প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়াতে বিতর্কিত এমএলএম কোম্পানি ডেসটিনি গ্রুপের নানা অনৈতিক ব্যবসা নিয়ে প্রতিদিন লেখালেখি হওয়ায় সারা দেশের মত মিরসরাই উপজেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আর এতে চরম উৎকন্ঠায় রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক। অন্যদিকে বিগত তিন চারদিনে বাংলাদেশের ইলেক্ট্রনিক্স্র্ ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ডেসটিনি বিষয়ে ঝড় বইছে। আর এতে বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত না পাওয়ার আশংকায় সারাদেশের গ্রাহকের মতো মুষড়ে পড়েছেন মিরসরাইয়ের হাজার হাজার গ্রাহক। তাদের এখন একটাই চিন্তা টাকা ফেরত পাবো তো।
বৃহস্পতিবার মিরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ডেসটিনির গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে চরম উৎকন্ঠায় আছেন তারা। তবে প্রতিনিয়ত অভয় দিয়ে যাচ্ছেন ডেসটিনির রুট লেভেলের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সাংবাদিকরা লিখলে কিছুই হবেনা। আমরা ব্যবসা করে সফলতার উচ্চ শিখরে পৌঁছে যাব। এমন আত্নবিশ্বাসমূলক কথা বলে সান্তনা দিয়ে গ্রাহকদের শান্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গ্রাহকরা জানান, ইতিপুর্বে আরেক হায়হায় কোম্পানি ইউনিপে টু ইউ, স্পিক এশিয়ার কার্যক্রম কিছুদিন ঠিকভাবেই চলছিল। কিছুদিন পরে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্নসাৎ করে তারা উধাও হয়ে যায়। ডেসটিনির পরিণতি ও সেরকম হবে কিনা সেই আশংকা পেয়ে বসেছে গ্রাহকদের। ডেসটিনির ভাষায় প্রাথমিক গ্রাহকদের বলা হয় ডিষ্ট্রিবিউটর। এই ডিষ্ট্রিবিউটররা এখন নানা দুশ্চিন্তায় ভুগলেও কর্মকর্তারা রয়েছে খোশ মেজাজে। এমন ভাব দেখালেন মিরসরাইয়ের আব্দুল মান্নান নামের ডেসটিনির এক কর্মকর্তা। মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি প্রথমে মিডিয়াকে দুষে বেশ কয়েকটি কথা বলে ফেলেন। তিনি দাবি করেন এসব মিডিয়ার বানোয়াট সংবাদ। এতে তাদের কিছুই যায় আসেনা।
তিনি আরো বলেন, এগুলো নিয়ে আমরা মোটেও চিন্তিত নই। বরং সাংবাদিকরা লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে যাবে আমরা ব্যবসা করে সফল হয়ে যাব। তিনি বলেন, ‘‘২০০১ সাল থেকে এ রকম লেখালেখি চলছে তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।
এ ছাড়া সারাদেশের বহুল আলোচিত মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে ডেসটিনি গ্রুপ প্রত্যেক নিহত পরিবারকে এক লাখ ও আহত পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে দেয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে গত বছর এ কোম্পানীকে নিয়ে সন্দেহের মাত্রা বেড়ে যায়। অনেকেই ওইদিন বলেন, দেশের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীগুলো এর চেয়ে কম টাকা দেয়। কিন্তু ডেসটিনি গ্রুপ এত টাকার দেয়ার উদ্দেশ্য কি?
অনুষ্ঠানে ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল আমিন মিরসরাই উপজেলায় ডেসটিনির ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছে বলে দাবী করেন। ডেসটিনিতে বিনিযোগ কারী বোরহান উদ্দিন, রাবেয়া বেগম বলেন, ডেসটিনির লোকের কথায় বেশি টাকার লোভে পড়ে বিনিযোগ করেছি। কিন্তু এখন টাকা ফেরত পাবো কিনা সে চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না। যদিও কর্মকর্তারা বলছে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু কবে ফেরত দেওয়া হবে সে ব্যাপারে কিছু বলছে না।
একাধিক গ্রাহক এই প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, ট্রি প্লান্টেশান প্যাকেজে ৫ হাজার টাকা বিনিযোগ করলে তিন মাসের মধ্যে সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা শর্তাবলীতে উল্লেখ থাকলেও দেড় বছর অতিবাহিত হলেও সার্টিফিকেট আজো দেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে মিরসরাই সদরের করিম মার্কেটের ৩য় তলায় গিয়ে দেখা গেছে, ডেসটিনির যে অফিস ছিল সব সময় সরগরম আজ সে অফিসে কর্মচারী রাহুল ছাড়া আর কেউ নেই। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে জানায় অফিসের লোকজন শহরে মিটিংয়ে গেছে।
বারইয়ারহাট জামালপুর সুপার মার্কেটে অবস্থিত অফিসে অনেক গ্রাহক তাদের পাওনা টাকা ফেরত নিতে আসে। কিন্তু কর্মকর্তারা তাদের টাকা সময়মত ফেরত দেয়া হবে বলে জানান।
জানা গেছে, মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট, মিরসরাই সদর, মিঠাছরা, আবুতোরাব, জোরারগ্ঞ্জ, ঠাকুরদিঘী, নিজামপুর কলেজ, আবুরহাটসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ডেসটিনি গ্রুপের প্রায় ২০টি শাখা অফিস রয়েছে।