Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

আমরা যাদের হারিয়েছি

জীবনের অনিবার্য পরিণতি মৃত্যু। মরণের এই অনিবার্যতাকে অস্বীকার অসম্ভব। কীর্তিমানের মৃত্যু জাতীয় জীবনে তৈরি করে গভীর শূন্যতা। যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। সুন্দর ভুবনে তাদের বেঁচে থাকা প্রয়োজনীয় হলেও অমোঘ সত্যকে মেনে আমাদের উচ্চারণ করতে হয়- ‘যেতে নাহি দিব/হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।’ প্রকৃতির নিয়ম মেনে ২০১৬ সালেও না ফেরার দেশে চলে গেছেন বেশ কয়েকজন কীর্তিমান। হারিয়েছি রাজনীতির সেরা মানুষ থেকে সংগীত-রুপালি জগতের প্রিয় মুখ ও বিখ্যাত গুণিজনদের।

বছর শেষে আরো একবার সশ্রদ্ধ স্মরণ মৃত্যুঞ্জয়ীদের। স্বীয় কর্মক্ষেত্রে 555জন্য যারা রেখেছেন দিগন্তবিস্তৃত অবদান।
বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুর রহমান বিশ্বাস না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ৩রা নভেম্বর। ১৯৫০-এর দশকে আইন পেশার মাধ্যমে পেশাগত জীবন শুরু করেন। ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য ও ১৯৬৭ সালে জাতিসংঘের ২২তম অধিবেশনে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে এমপি নির্বাচিত ও জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী ও বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পঞ্চম জাতীয় সংসদে প্রথমে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ১৯৯৬ সালে তিনি দেশের এক সামরিক ক্যু প্রতিহত করে দেশবাসীর কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হন।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান ৮১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ৬ই জুন। প্রথমে শিক্ষকতার মাধ্যমে চাকরি জীবন শুরু করলেও ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। বাংলাদেশের প্রথম অ্যাটর্নি জেনারেল এম এইচ খন্দকারের শিক্ষানবিশ লতিফুর রহমান ১৯৭৯ সালে বিচারক হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে যোগ দেন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০১ সালে অবসরে যান। ১৯৯৬-২০০১ সালের আওয়ামী
লীগ সরকারের মেয়াদ শেষে তখনকার নিয়ম অনুযায়ী সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন লতিফুর রহমান। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা’ নামে একটি বইয়ে লতিফুর রহমান তার ৮৭ দিন সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতার কথা লিখে গেছেন।
খ্যাতনামা পার্লামেন্টারিয়ান ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত না ফেরার দেশে চলে গেছেন ৫ই ফেব্রুয়ারি। ছাত্রজীবনে বামপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া এ রাজনীতিক ন্যাপ ও একতা পার্টির পর নব্বইয়ের দশকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। সত্তরের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের এ সদস্য স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে সাতবার এমপি নির্বাচিত হন। নবম সংসদে তিনি রেলমন্ত্রী নিযুক্ত হলেও সহকারীর অর্থ কেলেংকারির ঘটনার পর পদত্যাগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করেন। দুবার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকারী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত একজন অভিজ্ঞ সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন ৭৪ বছর বয়সে ১৪ই ডিসেম্বর। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মহিউদ্দিন চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদে ছিলেন। চট্টগ্রামে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বন্দর রক্ষা আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯৪-২০০৫ পর্যন্ত ১৬ বছর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করলেও কখনও এমপি হতে পারেননি মহিউদ্দিন। পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ‘অনন্য দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করেছিল তার সময়ে। চট্টগ্রাম অন্তপ্রাণ এ রাজনীতিক চট্টগ্রাম ছাড়তে হবে দেখে মন্ত্রিত্ব ও দলের প্রেসিডিয়াম পদ নেননি।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার মৃত্যুবরণ করেছেন ৮৫ বছর বয়সে ২৪শে অক্টোবর। ১৯৫৬ সালে সিএসপি অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে আনোয়ার ৩৪ বছরের পেশাগত জীবনে ফরিদপুর ও ঢাকার ডিসি, জুটমিল কর্পোরেশন, টেক্সটাইল মিল ও বাংলাদেশ বিমানের চেয়ারম্যান, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্বপালন শেষে ১৯৯০ সালে অবসর নেন তিনি। এম কে আনোয়ার ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেযার পর টানা পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হন। দুইবার পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
ডিএনসিসি মেয়র ও সংস্কৃতিপ্রিয় ব্যবসায়ী আনিসুল হক লন্ডনের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। রাজনীতির বাইরেও যার পরিচয় ছিল নানামাত্রিক। উপস্থাপক, উদ্যোক্তা, নেতৃত্ব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখিয়েছেন সাফল্য। জনপ্রতিনিধি হিসেবেও অর্পিত দায়িত্ব পালনে দক্ষতার চিহ্ন রেখে অল্প দিনে ঠাঁই করে নিয়েছেন নগরবাসীর মনে। মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুল হক তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি ব্যবসার বিস্তৃতি ঘটিয়েছিলেন বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি, আবাসন, কৃষিভিত্তিক শিল্পখাতে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে বিটিভিতে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মুখোমুখি একটি অনুষ্ঠান ‘সবিনয়ে জানতে চাই’ উপস্থাপন করেছিলেন তিনি। বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই ও সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অনেকটা চমক হিসেবে ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিন বছরে বেশ কয়েকটি ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়ে নগরবাসীর মনজয় করেন তিনি।
বাংলাদেশের কূটনীতির অন্যতম কুশীলব দেশের প্রথম চিফ অব প্রটোকল, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত ফারুক আহমেদ চৌধুরী। ৮৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন ১৭ই মে। সিলেটের এক কীর্তিমান পরিবারের সন্তান ফারুক চৌধুরী। এক পরিবারে চার ভাই কূটনীতিক হিসেবে বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্য নজির গড়েছিলেন ফারুক চৌধুরী ও তার ভাইয়েরা। বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের বহু ঘটনার সাক্ষী ফারুক চৌধুরীর কূটনীতিক জীবনের শুরু গত শতকের পঞ্চাশের দশকে। তিনি দেখেছেন ভারতবর্ষ থেকে পাকিস্তানের জন্ম ও বিলয় এবং নতুন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ। ফারুক চৌধুরীর কূটনৈতিক জীবন ছিল পঞ্চাশ বছরেরও বেশি দীর্ঘ। অবিভক্ত পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো, স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের সাবেক এ পররাষ্ট্র সচিব দিল্লি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, আলজেরিয়া, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বেলজিয়াম, ইউরোপের বিভিন্ন মিশনে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভাষা ও আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা নির্ধারণে তার রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। দীর্ঘ কূটনীতিক জীবন থেকে অবসরের পর লেখালেখিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন ফারুক চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কয়েকটি আকরগ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আইএফআইসি পুরস্কার পান তিনি।
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ৭৬ বছর বয়সে ২১শে আগস্ট। কলকাতায় জন্ম নেয়া রাজ্জাক ১৯৬৬ সালে ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঢাকাই ছবিতে দর্শকনন্দিত হন। তার অভিনিত চলচ্চিত্রের মধ্যে- ‘অবুঝ মন’, ‘আলোর মিছিল’ ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রংবাজ’, ‘কি যে করি’, ‘অনন্ত প্রেম’ ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘জীবন থেকে নেওয়া’ ‘পিচঢালা পথ’, ‘অশিক্ষিত’, ‘বেহুলা’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’ উল্লেখযোগ্য। অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন।
একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আবদুল জব্বার না ফেরার দেশে চলে গেছেন ৭৯ বছর বয়সে ৩০ আগস্ট। ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘ওরে নীল দরিয়া’, ‘তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়’ এমন অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী আবদুল জব্বার। তার তিনটি গান স্থান পেয়েছিল বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০গানে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এ শিল্পী স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হারমোনিয়াম নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের গান গেয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। সে সময় প্রায় ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরবন সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেছেন ৬৭ বছর বয়সে ২৭শে জুলাই। ১৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে নবম সেক্টরের অধীনে সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সুন্দরবনে সদর দপ্তর স্থাপন করে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। পঁচাত্তর পরবর্তী বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে যাবজ্জীবন পেলেও পরে সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পান। জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা, জলদস্যু দমন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
শিল্পকলার সমঝদার এক পেশাদার কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস মৃত্যুবরণ করেন ৫৭ বছর বয়সে ১১ই মার্চ। ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের এ রাষ্ট্রদূত দেশটির রাজধানী ব্রাসিলিয়াতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ নানা পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটেও তিনি পড়িয়েছিলেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কার্যক্রম বিস্তারে একজন সংগঠক হিসেবে তার ভূমিকা ছিল। ২০০৯-২০১২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালনকারী পেশাদার কূটনীতিক মিজারুল কায়েস সার্কের মহাপরিচালক, বৃটেন ও মালদ্বীপের হাইকমিশনার ও রাশিয়াতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিরামিক শিল্পের প্রতিকৃৎ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুন-অর-রশীদ খান মুন্নু মৃত্যুবরণ করেন ৮৫ বছর বয়সে ১লা আগস্ট। শিল্পপতি মুন্নু দেশের সিরামিক শিল্পের একজন প্রতিকৃৎ ও মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ছিলেন। খ্যাতনামা এ সমাজসেবক বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি তিনবার এমপি নির্বাচিত ও বিএনপি সরকারের আমলে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
একুশে পদকে ভূষিত ‘?নিসর্গসখা’ খ্যাত প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মা না ফেরার দেশে পাড়ি দেন ৮৮ বছর বয়সে ১৪ই সেপ্টেম্বর। উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি মস্কোর গ্রগতি প্রকাশনে চাকরি করেছেন প্রায় কুড়ি বছর। তার  লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে-‘সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস’, ‘ফুলগুলি যেন কথা’, ‘গাছের কথা ফুলের কথা’, ‘নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা’, ‘জীবনের শেষ নেই’, ‘বিজ্ঞান ও শিক্ষা : দায়বদ্ধতার নিরিখ’, ‘ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি’, ‘বিগল যাত্রীর ভ্রমণ কথা’, ‘গহন কোন বনের ধারে’ ও ‘বাংলার বৃক্ষ’।
হরি ধানের উদ্ভাবক কৃষক হরিপদ কাপালী মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জুলাই। তার উদ্ভাবিত হরি ধান আবাদ সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ে। এই ধান উদ্ভাবনের জন্য নবম ও দশম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা বইয়ে হরিপদ কাপালীর কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষি সংগঠন সম্মাননা ও পুরস্কার পান তিনি।
‘আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না’- গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা লাকী আখন্দ না ফেরার দেশে চলে যান ৬১ বছর বয়সে ২১শে এপ্রিল। তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, ‘মামনিয়া, ‘কী করে বললে তুমি’ ‘লিখতে পারি না কোনো গান’ ইত্যাদি। তার নিজের সুর করা গানের সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি।
জনপ্রিয় বাংলা লোকগান ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’-এর শিল্পী বারী সিদ্দিকী না ফেরার দেশে চলে গেছেন ৬৩ বছর বয়সে ২৪শে নভেম্বর। লোকগান ও আধ্যাত্মিক ধারার গানের জন্য পরিচিত এই শিল্পী গত শতকের শেষ দিকে সারা দেশের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছান কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরে। শ্রাবণ মেঘের দিন, রূপকথার গল্প, নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণসহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের প্ল্লেব্যাকে তার দরদি কণ্ঠের বেশকিছু আবেগমাখা গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।
এ ছাড়াও ২০১৭ সালে না ফেরার দেশে পাড়ি দেয়া বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ডা. এম এ মাজেদ, সাবেক প্রধান বিচারপতি এম এম রুহুল আমিন, সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, ইতালির বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি সম্মানসূচক নাগরিক মুক্তিযোদ্ধা ও অনুবাদক ফাদার ম্যারিনো রিগন, অপরাজেয় বাংলা’র ভাস্কর ও একুশে পদকে ভূষিত চিত্রশিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ, ষাটের দশকের কবি ও বহুমাত্রিক লেখক সাযযাদ কাদির, ইস্পাহানী গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা আলী বেহরুজ ইস্পাহানী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি কাজী আনোয়ার হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ড. সাবেক এমপি মিয়া আব্বাস উদ্দিন, সাবেক এমপি আহসান আহমেদ, সাবেক এমপি মো. মুর্তুজা হোসেন মোল্লা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামাল, আওয়ামী লীগের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক, সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) এ এ মারুফ, সাবেক এমপি আলহাজ মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা, সাবেক এমপি খান টিপু সুলতান, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শিলা ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মাহবুব) আহ্বায়ক আ ফ ম মাহবুবুল হক, কমিউনিস্ট নেতা জসিম উদ্দিন মণ্ডল, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন নিলু, আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক, বিচারপতি বজলুর রহমান, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কাজী এটি মনোয়ার উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ও ডাকসুর সাবেক জিএস ফজলী হোসেন, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক স্থপতি তসলিম উদ্দিন চৌধুরী, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর হান্নান ফিরোজ, সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী, কাজী সিরাজ, সঞ্জীব চৌধুরী, ওমর ফারুক, বীরপ্রতীক আবদুল জলিল, গেরিলা যোদ্ধা শহীদুল হক মামা, ভাষাবিজ্ঞানী ড. রাজীব হুমায়ুন, একুশে পদকে ভূষিত কিংবদন্তি স্বরলিপিকার ও নজরুল গবেষক সুধীন দাশ, স্বাধীন বাংলা ফুটবলার দলের সদস্য শেখ আইনুল হক, অমলেশ সেন, ফুটবলার আবদুল মোতালেব, শামসুল হক মোল্লা, হকি খেলোয়াড় খাজা রহমত উল্লাহ, মহিলা ফুটবলার সাবিনা ইয়াসমিন, শুটার হায়দার আলী, চিত্রপরিচালক ইবনে মিজান, অভিনেতা মিজু আহমেদ, নাজমুল হুদা বাচ্চু, আবদুর রাতিন, আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফ, গীতিকার ও সুরকার কুটি মনসুর প্রমুখ মৃত্যুবরণ করেন।

 রিপোর্ট »সোমবার, ১ জানুয়ারী , ২০১৮. সময়-৬:৫২ pm | বাংলা- 18 Poush 1424
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP