Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি : বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ সারা বিশ্বের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমা474ন মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্যের এক অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপনের মধ্য দিয়ে রোববার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট থেকে ১টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত ২১ মিনিটের আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে টঙ্গীর তুরাগতীরে তাবলিগ জামাত আয়োজিত ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটেছে।  আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ব তাবলিগ জামাতের অন্যতম শীর্ষ মুরুব্বী ভারতের মাওলানা যোবায়েরুল হাসান। গত প্রায় এক সপ্তাহে ইজতেমা ও আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ময়দানে ছুটে আসা দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্ল¬ীদের পদভারে আর আল্ল¬াহুম্মা আমিন, আল্ল¬াহুম্মা আমিন ধ্বনিতে মুখরিত করে তুলেছিল টঙ্গীর এক সময়কার খরস্রোতা ঐতিহ্যবাহী কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের তীরবর্তী টঙ্গী শিল্প শহরকে। এতদঞ্চলের বৃহত্তম এ মুসলিম মহাসম্মেলনের প্রথম পর্বের ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় গতকাল আখেরি মোনাজাতে বিদেশী ২০ সহ¯্রাধিক মুসল্ল¬ীসহ প্রায় ৩৫ লাখ মুসল্ল¬ীর সমাগম হয়েছে বলে অভিজ্ঞজনরা মনে করেছেন। দ্বিতীয় পর্বের ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা আগামী ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে চলবে ২ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত। একইভাবে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। আর এর সাথে সমাপ্তি ঘটবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ইহ ও পরকালীন কল্যাণ, বিশ্ব শান্তি, সমৃদ্ধি, হেদায়েত, মাগফিরাত এবং নাজাত কামনা করে পরম করুণাময় রাব্বুল আলামীনের দরবারে লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান দু’হাত তুলে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুসূচনা করে পাপ মুক্তি কামনা করেন। এসময় ময়দানের দুপুরের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে চোখের নোনা পানিতে বুক ভাসিয়ে কায়মনো বাক্যে উচ্চারিত হয়েছে মহান রাব্বুল আলামীনের মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। সকলেই আবেগ-আপ্লুত  হয়ে গিয়েছিল কিছু সময়ের জন্য হলেও। সকল ভেদাভেদ ভুলে আমীর-ফকির, ধনী-গরিব, মনিব-ভৃত্য একই কাতারে শামিল হয়ে গিয়েছিল শীর্ণকায় তুরাগ তীরকে ঘিরে। বিশ্বের ১২৯টি দেশের ২০ সহাস্রাধিক প্রতিনিধিসহ স্বাগতিক বাংলাদেশের সর্বস্তরের অগণিত মুসলমানের সাথে আখেরি মোনাজাতে শরীক হয়েছেন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ, মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কুটনৈতিক মিশনের সদস্য, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ ও পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাগণ।
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মোনাজাতে অংশ নেন ইজতেমা ময়দানের মূল মঞ্চে বসে। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কিছু সময় বয়ানও শুনেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম. এ. মান্নান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র এড. মোঃ আজমত উল¬া খান উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সাথে নিয়ে গণভবন থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৯ দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে মোনাজাতে অংশ নেন এটলাস হোন্ডা ফ্যাক্টরীর ভেতর তৈরি বিশেষ মঞ্চ থেকে। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট থেকে ১টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত ২১ মিনিটের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ব তাবলিগ জামাতের অন্যতম আমীর হযরত মাওলানা যোবায়েরুল হাসান। এর আগে আখেরি মোনাজাতের পূর্বে সমাপনী বয়ানও করেন তিনি। হযরত মাওলানা যোবায়েরুল হাসান সংক্ষিপ্ত বয়ানে ইমান ও আমলের ওপর বিভিন্ন হেদায়েতী বক্তব্যে বলেন, দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতের প্রতি আমাদের বেশি করে খেয়াল রাখতে হবে। দুনিয়ার জিন্দিগীর চেয়ে আখেরাতের জিন্দিগী হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী। আমাদের ওপর বৃষ্টির ফোটার মত পেরেশানী ধেয়ে আসছে। এ পেরেশানী থেকে রক্ষার জন্য আমাদের ঈমানি শক্তিকে আরো মজবুত করতে হবে। ধাবিত হতে হবে আখেরাতের দীর্ঘ জিন্দিগীর দিকে। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে নিজের কৃতকর্মের অনুসূচনার মাধ্যমে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। চোখের পানি ফেলে মোনাজাত করতে হবে। মোনাজাত কবুল হলেই আমরা পাপমুক্ত হব। দুনিয়া ও আখেরাতে ফিরে আসবে শান্তি। মোনাজাতের সময় আমিন-আমিন ধ্বনিতে পুণ্যভূমিতে পরিণত হয় গোটা টঙ্গী ও আশপাশ এলাকা।
মোনাজাতে মহিলাদের অংশগ্রহণ
আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মহিলা মুসল্ল¬ীও আগের দিন রাত থেকে ইজতেমা ময়দানের আশপাশে, বিভিন্ন মিলকারখানা, বাসাবাড়িতে ও বিভিন্ন দালানের ছাদে বসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।
টিভির মাধ্যমে
আখেরি মোনাজাতের সময় ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার মাধ্যমে লাখ লাখ নারী-পুরুষ, ও শিশু টিভির সামনে বসে মোনাজাতে অংশ নেন। ১০ কিমি এলাকা জুড়ে মানব বলয় : প্রথম দফায় তিন দিনব্যাপী ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমার শেষ দিন রোববার ভোর থেকেই আখেরি মোনাজাতে শামিল হতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ রাজধানী ঢাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকে ট্রেন, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, জিপ, কার এবং নৌকাসহ নানা ধরনের যানবাহনে এবং পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে পৌঁছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ। এছাড়া ভোর থেকেই ইজতেমা ময়দানের দক্ষিণে খিলক্ষেত, বিশ্বরোড থেকে এবং উত্তরে গাজীপুর চৌরাস্তা, পূর্বে পূবাইল, পশ্চিমে আশুলিয়া পর্যন্ত রিকসাসহ সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার ফলে সকাল থেকেই দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে ইজতেমা অভিমুখে ছুটতে থাকে মুসল্ল¬ীদের কাফেলা। এতে তুরাগের তীরকে কেন্দ্র করে কয়েক বর্গকিলোমিটারজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশাল মানব বলয় সৃষ্টি হয়। মোনাজাত শুরুর আগেই সকাল ১০টার মধ্যে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় তুরাগ তীরের পুরো ইজতেমাস্থল ও চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে গোটা এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা  
এবারের বিশ্ব ইজতেমায় নজীরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ১৫ হাজারের অধিক পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি রয়েছে ৩ হাজার সাদা পোশাকী গোয়েন্দা পুলিশ। আকাশে হেলিকপ্টার, নৌ-পথে স্পিড বোটে সতর্ক টহল ও নজরদারী। আকাশ ও নৌপথের পাশাপাশি সড়ক পথগুলোতে খালি চোখ ছাড়াও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে বাইনোকুলার দিয়ে মুসল্ল¬ীসহ সকলের চলার পথ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে স্থাপিত র‌্যাবের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মনিটরিং করা হয়েছে। এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত।
যে কারণে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা  
বিশ্ব তাবলিগ জামাতের মুরুব্বীগণ জানান, সারা বিশ্বে তাবলিগের দাওয়াত পৌঁছে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে ইজতেমায় শরীক হওয়া মুসল্ল¬ীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের সময় টঙ্গী তুরাগ তীরের এ বিশাল ময়দানেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না। আগত মুসল্ল¬ীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের অসুবিধা ও দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ২০১১ সাল থেকে দুই দফায় ইজতেমা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাঁরা প্রথম দফ পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিবেন তাঁরা দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিবেন না। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষে মুসল্লীগণ ময়দান ছেড়ে দেয়ার পর দ্বিতীয় পর্বে জেলা ওয়ারি মুসল্লীগণ ময়দানে এসে অবস্থান নিবেন, বয়ান শুনবেন এবং দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিবেন। দ্বিতীয় পর্ব শেষে নিজ নিজ ঠিকানা ও গন্তব্যে ফিরে যাবেন। এর মাধ্যমে শেষ হবে এবারের ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমা। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় সর্বাধিক মুসল্ল¬ী এসেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সৌদি আরব।
তাশকিল কামরা
ইজতেমা ময়দানের উত্তর প্রান্তে করা হয়েছে তাশকিলের কামরা। ময়দানের খেত্তাগুলো থেকে চিল্ল¬ায় নাম লেখানো ধর্মপ্রাণ মুসল্ল-ীদের জামাতবন্দী করে তাশকিলের কামরায় জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। আখেরি মোনাজাত শেষে এসব মুসল্ল¬ীগণ জামাতবন্দী হয়ে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে গিয়ে রিপোর্ট করে তাবলীগের মুরুব্বীদের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী জামাতবন্দী হয়ে দ্বীনের দাওয়াতী মেহনতে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বেন। এসব জামাতবন্দীদের মধ্যে ৪০দিন, ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর ও আজীবন চিল্লাধারী মুসল্ল¬ীগণ রয়েছেন। তারা বহিঃবিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে দাওয়াতি কাজ করবেন।
মিডিয়া সেন্টার স্থাপন
বিশ্ব ইজতেমার সংবাদ কাভারেজের সুবিধার্থে টঙ্গী প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনায় একটি মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। গত তিন দিন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের মিলনমেলা ছিল এই মিডিয়া সেন্টারে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম. এ. মান্নান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী সুলতান মাহমুদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ মিডিয়া সেন্টার পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হওয়া পর্যন্ত মিডিয়া সেন্টার খোলা রাখা হবে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেদায়েত উল্লাহ।
আরো ৩ মুসল্ল¬ীর ইন্তেকাল
রোববার আখেরি মোনাজাতের দিন ইজতেমা ময়দানে আরো তিন মুসল্ল¬ীর মৃত্যু হয়েছে। এরা হচ্ছেন, ঢাকার বংশালের সিরাজ মিয়া (৫০)। ঢাকার দোহার এলাকার কাশেম আলী (৫৫)। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই দুই জন মারা যান। বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান সিলেট জেলার লাঙ্গলকোট থানার ছামির উদ্দিন (৭৫)। তিন দিনের ইজতেমায় এ পর্যন্ত মোট ১০ জন মুসল্লীর মৃত্যু হয়।সারা বিশ্বের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্যের এক অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপনের মধ্য দিয়ে রোববার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট থেকে ১টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত ২১ মিনিটের আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে টঙ্গীর তুরাগতীরে তাবলিগ জামাত আয়োজিত ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটেছে।  আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ব তাবলিগ জামাতের অন্যতম শীর্ষ মুরুব্বী ভারতের মাওলানা যোবায়েরুল হাসান। গত প্রায় এক সপ্তাহে ইজতেমা ও আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ময়দানে ছুটে আসা দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্ল¬ীদের পদভারে আর আল্ল¬াহুম্মা আমিন, আল্ল¬াহুম্মা আমিন ধ্বনিতে মুখরিত করে তুলেছিল টঙ্গীর এক সময়কার খরস্রোতা ঐতিহ্যবাহী কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের তীরবর্তী টঙ্গী শিল্প শহরকে। এতদঞ্চলের বৃহত্তম এ মুসলিম মহাসম্মেলনের প্রথম পর্বের ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় গতকাল আখেরি মোনাজাতে বিদেশী ২০ সহ¯্রাধিক মুসল্ল¬ীসহ প্রায় ৩৫ লাখ মুসল্ল¬ীর সমাগম হয়েছে বলে অভিজ্ঞজনরা মনে করেছেন। দ্বিতীয় পর্বের ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা আগামী ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে চলবে ২ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত। একইভাবে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। আর এর সাথে সমাপ্তি ঘটবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ইহ ও পরকালীন কল্যাণ, বিশ্ব শান্তি, সমৃদ্ধি, হেদায়েত, মাগফিরাত এবং নাজাত কামনা করে পরম করুণাময় রাব্বুল আলামীনের দরবারে লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান দু’হাত তুলে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুসূচনা করে পাপ মুক্তি কামনা করেন। এসময় ময়দানের দুপুরের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে চোখের নোনা পানিতে বুক ভাসিয়ে কায়মনো বাক্যে উচ্চারিত হয়েছে মহান রাব্বুল আলামীনের মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। সকলেই আবেগ-আপ্লুত  হয়ে গিয়েছিল কিছু সময়ের জন্য হলেও। সকল ভেদাভেদ ভুলে আমীর-ফকির, ধনী-গরিব, মনিব-ভৃত্য একই কাতারে শামিল হয়ে গিয়েছিল শীর্ণকায় তুরাগ তীরকে ঘিরে। বিশ্বের ১২৯টি দেশের ২০ সহাস্রাধিক প্রতিনিধিসহ স্বাগতিক বাংলাদেশের সর্বস্তরের অগণিত মুসলমানের সাথে আখেরি মোনাজাতে শরীক হয়েছেন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ, মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কুটনৈতিক মিশনের সদস্য, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ ও পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাগণ।
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মোনাজাতে অংশ নেন ইজতেমা ময়দানের মূল মঞ্চে বসে। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কিছু সময় বয়ানও শুনেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম. এ. মান্নান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র এড. মোঃ আজমত উল¬া খান উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সাথে নিয়ে গণভবন থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৯ দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে মোনাজাতে অংশ নেন এটলাস হোন্ডা ফ্যাক্টরীর ভেতর তৈরি বিশেষ মঞ্চ থেকে। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট থেকে ১টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত ২১ মিনিটের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ব তাবলিগ জামাতের অন্যতম আমীর হযরত মাওলানা যোবায়েরুল হাসান। এর আগে আখেরি মোনাজাতের পূর্বে সমাপনী বয়ানও করেন তিনি। হযরত মাওলানা যোবায়েরুল হাসান সংক্ষিপ্ত বয়ানে ইমান ও আমলের ওপর বিভিন্ন হেদায়েতী বক্তব্যে বলেন, দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতের প্রতি আমাদের বেশি করে খেয়াল রাখতে হবে। দুনিয়ার জিন্দিগীর চেয়ে আখেরাতের জিন্দিগী হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী। আমাদের ওপর বৃষ্টির ফোটার মত পেরেশানী ধেয়ে আসছে। এ পেরেশানী থেকে রক্ষার জন্য আমাদের ঈমানি শক্তিকে আরো মজবুত করতে হবে। ধাবিত হতে হবে আখেরাতের দীর্ঘ জিন্দিগীর দিকে। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে নিজের কৃতকর্মের অনুসূচনার মাধ্যমে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। চোখের পানি ফেলে মোনাজাত করতে হবে। মোনাজাত কবুল হলেই আমরা পাপমুক্ত হব। দুনিয়া ও আখেরাতে ফিরে আসবে শান্তি। মোনাজাতের সময় আমিন-আমিন ধ্বনিতে পুণ্যভূমিতে পরিণত হয় গোটা টঙ্গী ও আশপাশ এলাকা।
মোনাজাতে মহিলাদের অংশগ্রহণ
আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মহিলা মুসল্ল¬ীও আগের দিন রাত থেকে ইজতেমা ময়দানের আশপাশে, বিভিন্ন মিলকারখানা, বাসাবাড়িতে ও বিভিন্ন দালানের ছাদে বসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।
টিভির মাধ্যমে
আখেরি মোনাজাতের সময় ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার মাধ্যমে লাখ লাখ নারী-পুরুষ, ও শিশু টিভির সামনে বসে মোনাজাতে অংশ নেন। ১০ কিমি এলাকা জুড়ে মানব বলয় : প্রথম দফায় তিন দিনব্যাপী ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমার শেষ দিন রোববার ভোর থেকেই আখেরি মোনাজাতে শামিল হতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ রাজধানী ঢাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকে ট্রেন, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, জিপ, কার এবং নৌকাসহ নানা ধরনের যানবাহনে এবং পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে পৌঁছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ। এছাড়া ভোর থেকেই ইজতেমা ময়দানের দক্ষিণে খিলক্ষেত, বিশ্বরোড থেকে এবং উত্তরে গাজীপুর চৌরাস্তা, পূর্বে পূবাইল, পশ্চিমে আশুলিয়া পর্যন্ত রিকসাসহ সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার ফলে সকাল থেকেই দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে ইজতেমা অভিমুখে ছুটতে থাকে মুসল্ল¬ীদের কাফেলা। এতে তুরাগের তীরকে কেন্দ্র করে কয়েক বর্গকিলোমিটারজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশাল মানব বলয় সৃষ্টি হয়। মোনাজাত শুরুর আগেই সকাল ১০টার মধ্যে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় তুরাগ তীরের পুরো ইজতেমাস্থল ও চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে গোটা এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা  
এবারের বিশ্ব ইজতেমায় নজীরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ১৫ হাজারের অধিক পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি রয়েছে ৩ হাজার সাদা পোশাকী গোয়েন্দা পুলিশ। আকাশে হেলিকপ্টার, নৌ-পথে স্পিড বোটে সতর্ক টহল ও নজরদারী। আকাশ ও নৌপথের পাশাপাশি সড়ক পথগুলোতে খালি চোখ ছাড়াও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে বাইনোকুলার দিয়ে মুসল্ল¬ীসহ সকলের চলার পথ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে স্থাপিত র‌্যাবের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মনিটরিং করা হয়েছে। এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত।
যে কারণে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা  
বিশ্ব তাবলিগ জামাতের মুরুব্বীগণ জানান, সারা বিশ্বে তাবলিগের দাওয়াত পৌঁছে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে ইজতেমায় শরীক হওয়া মুসল্ল¬ীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের সময় টঙ্গী তুরাগ তীরের এ বিশাল ময়দানেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না। আগত মুসল্ল¬ীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের অসুবিধা ও দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ২০১১ সাল থেকে দুই দফায় ইজতেমা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাঁরা প্রথম দফ পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিবেন তাঁরা দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিবেন না। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষে মুসল্লীগণ ময়দান ছেড়ে দেয়ার পর দ্বিতীয় পর্বে জেলা ওয়ারি মুসল্লীগণ ময়দানে এসে অবস্থান নিবেন, বয়ান শুনবেন এবং দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিবেন। দ্বিতীয় পর্ব শেষে নিজ নিজ ঠিকানা ও গন্তব্যে ফিরে যাবেন। এর মাধ্যমে শেষ হবে এবারের ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমা। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় সর্বাধিক মুসল্ল¬ী এসেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সৌদি আরব।
তাশকিল কামরা
ইজতেমা ময়দানের উত্তর প্রান্তে করা হয়েছে তাশকিলের কামরা। ময়দানের খেত্তাগুলো থেকে চিল্ল¬ায় নাম লেখানো ধর্মপ্রাণ মুসল্ল-ীদের জামাতবন্দী করে তাশকিলের কামরায় জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। আখেরি মোনাজাত শেষে এসব মুসল্ল¬ীগণ জামাতবন্দী হয়ে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে গিয়ে রিপোর্ট করে তাবলীগের মুরুব্বীদের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী জামাতবন্দী হয়ে দ্বীনের দাওয়াতী মেহনতে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বেন। এসব জামাতবন্দীদের মধ্যে ৪০দিন, ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর ও আজীবন চিল্লাধারী মুসল্ল¬ীগণ রয়েছেন। তারা বহিঃবিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে দাওয়াতি কাজ করবেন।
মিডিয়া সেন্টার স্থাপন
বিশ্ব ইজতেমার সংবাদ কাভারেজের সুবিধার্থে টঙ্গী প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনায় একটি মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। গত তিন দিন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের মিলনমেলা ছিল এই মিডিয়া সেন্টারে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম. এ. মান্নান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী সুলতান মাহমুদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ মিডিয়া সেন্টার পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হওয়া পর্যন্ত মিডিয়া সেন্টার খোলা রাখা হবে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেদায়েত উল্লাহ।
আরো ৩ মুসল্ল¬ীর ইন্তেকাল
রোববার আখেরি মোনাজাতের দিন ইজতেমা ময়দানে আরো তিন মুসল্ল¬ীর মৃত্যু হয়েছে। এরা হচ্ছেন, ঢাকার বংশালের সিরাজ মিয়া (৫০)। ঢাকার দোহার এলাকার কাশেম আলী (৫৫)। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই দুই জন মারা যান। বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান সিলেট জেলার লাঙ্গলকোট থানার ছামির উদ্দিন (৭৫)। তিন দিনের ইজতেমায় এ পর্যন্ত মোট ১০ জন মুসল্লীর মৃত্যু হয়।

 রিপোর্ট »রবিবার, ২৬ জানুয়ারী , ২০১৪. সময়-১০:৪৪ pm | বাংলা- 13 Magh 1420
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP