Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

কার মরা কে কান্দে

আব্দুল আজিজ তকি (১লা জানুয়ারী ২০১৪)

‘চার চাকাতে ভাগ্যবেধে বুঝে নিলাম ভাই

সব জিনিষের মূল্য আছে মানুষের দাম নাই। ’

‘মানুষের মন’ বাংলা ছায়াছবির একটা সাড়া জাগানো গানের কলি। ১৯৭২ সালে ছবিটি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছিল। এই ছবিরই নায়িকার মুখ দিয়ে বের হয়েছিল ‘ আমি অন্য কিছু চাই না শুধু বাঁচতে চাই’। ঠিক এমনি একজন রিক্সাওয়ালা সেদিন বলেছিল ভাইগো- ‘ভাত চাই কাপড় চাই, বাঁচার মত বাঁচতে চাই’ বলে বহুত চিলস্নাইছি, আর চিলস্নামুনা। আলস্নাহর কছম এমন কথা ভুলেও মুখে আনুমনা, হাত জোড় করে মাফ চাই। ভাত কাপড় কোন কিচ্ছুর দরকার নাই। আপনাগরে আলস্নাহ বহুত ÿমতা-শক্তি দিছে, আমাগরে মরার আগে মারবেন না, বালবাচ্চাগুলো কষ্ঠ পাবে, না খেয়ে মরবে’।

আলস্নাহ, খোদা, ভগবান, ইশ্বর, পরমেশ্বর সকলের দোহাই দিয়ে, মাথা নত করে, হাত জোড় করে, কানধরে অনুনয় বিনয় করে, কাকুতি মিনতি করে, পীর মুর্শিদ এর নাম ধরে কছম কিরা কাটলো একটি রিক্সাচালক তারপরও তা’কে মরতে হল। মরার আগেই তাকে মারা হল। তার রিক্সাটা ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেয়া হল। দোষটা ? অবরোধ কেন মানলোনা, হরতাল কেন করলোনা। অর্থাৎ তার কিংবা তার পরিবারের পাতে কিছু না পড়লেও পথে নামা নিষেধ। হিসাব মিলান। রিক্সাটা চালিয়ে নিত্যি আনে নিত্যি খায়, বাচ্ছাগুলোকে খাওয়ায় এমন মানুষটিকেও রাজনীতি করতে হবে। না করলে মরতে হবে। অন্যদিগে রাজনীতি পাগল পীরমুর্শিদের ঠানে ভোটে গেল যে মানুষটি তাকেও মরতে হল। রাজনীতির ডাকে সাড়া দিতে গেলেও মরে, না গেলেও মরে। গেলেও বিপদ না গেলেও বিপদ। কোন পথে হাটবে এই মানুষটি? ভয়ভীতিতে সে গাইতে আছে,

‘মুর্শিদ আমায় পথ দেখাইয়া দাও

আমি যে পথ চিনিনারে সঙে করে নাও’।

মুর্শিদ কোথায় ? কখনো কি সঙে নিয়েছিলেন ? দেখেনা না দরজা জানালা বন্ধ করে মুর্শিদ টেলিভিশনের পর্দায় বসে আছেন। বিবৃতি দিয়ে পথ বাতলে দিচ্ছেন, বাহিরে আসছেন না। মুর্শিদের ডাকে তার দলবল পাগল হয়ে ছুটলেও তিনি বসে থাকেন আরাম কেদারায়। মারফত উলস্নার দলও, নামাজ রোজা ছেড়ে অবরোধ করতে দা, কোড়াল, লাঠিসোটা নিয়ে রাসত্মায় লাফালাফি করছে। মনের সুখে খেলছে রক্তের হুলিখেলা । মুর্শিদের দেখা নেই। জনমানুষ সব ঘর দরজা বন্ধ করে ‘আলস্নাহ- হরি’ জপছে। বেঁচে থাকার কলমা কালাম জপে জপে প্রাণ বাঁচানোর আরাধনায় মত্ত্ব। ÿÿধের জালায় দু’একটা মানুষ রাস্থায় নামলেই বিপদ। এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর সাথেই যেন চলছে সব লড়াই। রাজনীতি পাগল, দলের পান্ডারা লড়তে চায়, মারতে চায়, নিজেও মরতে চায়। পেটের দায়ে যারা আজ রাস্থায় নামে তাদের যে শিং নেই, লড়বে কোথায়। ষাড়ের লড়াই করতে ষাড়ের মত শিং না থাকলে যা হয়? রাগে ঘুস্সায় ককটেল ফুটিয়ে রাস্থা পেঠায়, পার্ক  করা গাড়ি পোড়ায়, বাড়ি জালায়, দোকান ভাঙে, হাজার হাজার গাছ কাটে। কি রাহাজানিরে বাবা! মুর্শিদ কোথায়? নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছেন।  পুলিশ বাবাজির রাবার ভুলেট, লাটিপেটা, টিয়ার গ্যাস, গরম পানি কিছুই কাজে লাগছেনা। ইট পাটকেল মেরে পুলিশকেও নাসত্মানাবুদ করছে এরা। এত ÿÿপ্ত, এত ভয়ানক, এত হিংশ্র এরা কারা? শোনা কথা, এরা নাকি রাজনীতির ছেলে। এদের মা বাবা কি রাজনীতি করে? দলবল কি এদের জীবন যৌবন? নিশ্চয় না। যে রিক্সাওয়ালা মরছে, যে শ্রমজীবী মানুষটি মরছে, যে খেটেখাওয়া মানুষটি দু’মুটো অন্নের সন্ধানে রাস্থায় প্রাণ দিচ্ছে, রাজনীতির ছেলে-ছোকরাগুলো তাদেরই সমত্মান। এরা এই দলের সেই দলের লাঠিয়াল। হোক, তাই বলে কি নিজেদের মা বাবাদের বলের মত লাথি মারবে, পুড়িয়ে দেবে? তা’দের নেতানেত্রীরা বলে দিয়েছে বলেই কি এমন অমানবিক কর্মকান্ড করবে! কি বলছো?  ‘সরকার হঠাবে, দেশ বাঁচাবে, গণতন্ত্র বাঁাচাবে’ এই দুরবৃত্তরা! বল দেখি তাদের পীর মুর্শিদ কোথায়; চল তাদের একটু জিজ্ঞাস করি?

-তাদেরকে পাবেন না; তারা বালাখানায়।

-তা’দের ছেলেমেয়েরা কোথায়?

-তাও পাবেন না; প্রাণ বাঁচাতে তারা পরবাসে।

-তারা কি কখনো রাস্থায় নামেনা?

-না না তারা রাস্থায় নামবে কেন, যদি মরে যায় তা’হলে দেশ চালাবে কে?

বাহবা ‘দুঃখ পেলেও খুশী হলাম জেনে’। সরকার হঠাবে আমার ছেলে, দেশ বাঁচাবে আমার ছেলে, গণতন্ত্র আনবে আমার ছেলে, আর দেশ চালাবে তাদের ছেলে! খুব ভাল, খুব ভাল। আহারে- ‘কার মরা কে কান্দে – কার ভাত ছালন কেবা রান্ধে।’ সাবাস নেতানেন্ত্রী। আপনাদের দেখে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘নন্দলাল’ কবিতাটি আবৃতির ইচ্ছাটি সামলাতে পারছিনে। পাঠক মাফ করবেন, ধৈর্য্যধরে কবিতাটি শুনলে খুশী হব।

 

নন্দলাল তো একা একটা করিল ভীষন পণ

স্বদেশের তরে যা করেই হোক রাখিবে সে জীবন।

সকলে বলিল,‘আ-হা-হা কর কি, কর কি নন্দলাল?

নন্দ বলিল,‘বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল?

আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ?’

তখন সকলে বলিল-‘বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।’

নন্দের ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তারে কেবা

সকলে বলিল ,‘যাওনা নন্দ, করো না ভায়ের সেবা।’

নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দেই-

না হয় দিলাম,-কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি?

বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখি চারিদিক

সকলে বলিল-‘হাঁ হাঁ হাঁ, তা বটে, তা বটে ঠিক।’

নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির,

গালি দিয়া সব গদ্যে পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির:

পড়িল ধন্য দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন;

লেখে যত তার দ্বিগুণ ঘুমায়, খায় তার দশগুণ।

নন্দ বাড়ির হ‘ত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি;

চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি,

নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষন, রেলে ‘কলিসন’ হয়;

হাঁটতে সর্প,কুকুর আর গাড়ি-চাপা পড়া ভয়,

তাই শুয়ে শুয়ে, কষ্টে বাঁচিয়ে রহিল নন্দলাল

সকলে বলিল-‘ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক চিরকাল।’

 

আমাদের রাজনীতির পীর মুর্শিদ যারা আছেন তাদের জীবনটা লম্বা হোক, তারা নন্দ লাল হয়ে বেঁচে থাকুক, তারা আমাদের জানমাল ধ্বংশকরে ধরীত্রির হাল ধরে আমাদের বারোটা বাজিয়ে সুখী হোক। জীবন দিয়ে না পারলেও হাজার হাজার গাছ দিয়েও হলে আমরা তাদের জীবমত্ম চিতাকে বাঁচাতে চাই। আমাদের ভাগ্য এখন আর চাকায় বাধা নেই। আমাদের জীবন বাধা হয়েছে রাজনীতিতে। মানুষের মূল্য আগেই নির্বাসনে। আমাদের ছেলে ছোকরারা তাদের জীবন দিয়ে যৌবন দিয়ে হলেও দল বাঁচাতে চায়। দুঃখ লাগে, তারা মারামারি করে নিজেদের পায়ে কুড়াল মারতে মারতে শেষ পর্যমত্ম টার্গেট করেছে সবুজ গাছগাছালিকে। গাছগুলো হাটতে পারেনা, দৌড়াতে পারেনা, লোকাতে পারেনা, একটা কথাও বলতে পারেনা।এদের কি দোষ ? মানুষ না হয় অমানুষ, অপদার্থ, অশীল, পাষন্ড, বেঈমান অনেক কিছু হয় কিন্তু গাছগুলোত গাছই। তারা মানুষের মত পাগল হতে পারেনা ছাগলও হয় না। অক্সিজেন সাপস্নাই দিয়ে মানুষকে বাঁচায়। তবুও এই নিরীহ  গাছগুলোর উপর কেন এত আক্রশ, এত অত্যাচার? গাছগুলোর দুরাবস্থা আর দুঃখ কষ্ঠ দেখে গাইতে আছি-

রাজনীতিতে ভাগ্যবেধে বুঝে নিলাম ভাই

নন্দ লালদেরও মুল্য আছে গাছগুলোর দাম নাই।

 রিপোর্ট »বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী , ২০১৪. সময়-১০:৫৫ pm | বাংলা- 10 Magh 1420
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP