Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

শেরে বাংলা : মাটি ও মানুষের জন্য নিবেদিত একজন

মোমিন মেহেদী

শেরে বাংলা বাংলা’র বাঘ/ বাঘের মতই চলা/ ছিলো যে তার সত্যিকারের বাঘের মতই বলা/ কন্ঠ শুনে শত্রম্নরা সব হয়েছিলো ভিত/ তাঁর-ই মত দিন এসেছে নতুন সবাই জিত/ জিতে গিয়ে আবার আনো নতুন দিনের ভোর/ যেই ভোরেতে থাকবে না আর বন্ধ মানবদোর/ খুলবে সবাই, বলবে সবাই সত্য কথা ঠিক/ আবারো সেই সোনালী দিন আনন্দে ঝিকমিক/ করবে জানি যদি সবাই অন্যায়কে দূর করি/ সবাই যদি ঐক্য হয়ে ভালো হবার সুর করি/ দেখবে আবার আসবে সুদিন হাসবে যত দুখিমুখ/ আনতে হলে হতেই হবে সৎ-মেধাবী সুখিমুখ…

যেই শেরে বাংলাকে নিয়ে এই পঙতিগুলো; সেই শেরে বাংলা শুধু বাংলাদেশেই নয়; সারা বিশ্বে সমহিমায় এখনো উজ্জল হয়ে আছেন। তিনি নতুন আলোয় আলোকিত হয়ে আমাদের তৎকালিন পূর্ববাংলাকে করতে চেয়েছিলেন সম্মৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত। এমন নিবেদিত মানুষের জীবন নিয়ে অসংখ্য বই রচিত হয়েছে। সেই বই, সেই ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর বৃটিশ সরকারের রোষানলে যখন সমগ্র মুসলিম জাতি ভারতের ইংরেজ যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছিল ঠিক সেই সময়ের প্রায় এক যুগ পর শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালে ২৭ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। এই মনীষীর যেমন জন্ম ঠিক তেমনি বঙ্গভঙ্গের পরে বঞ্চিত, লাঞ্ছিত ও ব্যথিত বাঙ্গালী মুসলমানদের ব্যথাতুর লগ্নে এই নেতা রাজনীতিতে প্রবেশ করে বাংলা তথা সমগ্র ভারতের মানুষদের মুক্তির দিশারী হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন।  শেরে বাংলা’র কাছে আজকের বাংলাদেশ তথা গোটা ভারতবর্ষেও মানুষ অপরিসীমভাবে ঋণী।

তিনি ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় নওয়াব স্যার সলিমুলস্নাহর সাথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এই মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠালগ্নে মুসলিম লীগকে ভারতবর্ষে সম্প্রসারিত ও সংগঠিত করবার লক্ষ্যে তিনি ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিলেন। আবার এই মুসলিম লীগের ১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ লাহোর অধিবেশনে ‘‘লাহোর প্রসত্মাব’’-এর তিনিই উপস্থাপক ছিলেন। সেই লাহোর প্রসত্মাবের উপর ভিত্তি করেই আজকে পাকিসত্মান ও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত। দুটি মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যে নেতা অবদান রেখে গেছেন সে নেতা যৌক্তিকভাবেই স্মরণীয়। ১৯১২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করে বঞ্চিত বাঙালি মুসলিমের মুক্তির দিশারী হয়ে ওঠেন। তিনি এবং সৈয়দ নওয়াব আলী খান, নওয়াব স্যার সলিমুলস্নাহর সথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যান। নওয়াব স্যার সলিমুলস্নাহর অকাল মৃত্যুতে তিনি এবং সৈয়দ নওয়াব আলী খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি উৎরিয়ে এগিয়ে যান। এই দুই নেতার অক্লান্ত চেষ্টায় ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। তিনি ১৯১৬ সালে ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হয়ে বাংলার মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে সচেষ্ট হন। ১৯২৪ সালে বাংলার শিক্ষামন্ত্রী হয়ে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ বাংলায় শিক্ষা সংস্কার ও শিক্ষা বিসত্মারে অসীম ভূমিকা পালন করেন। তারই চেষ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদিনা ফজলুল হক কলেজ, ইডেন গার্লস কলেজ, চাখার কলেজ স্থাপিত হয়। এছাড়া কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে মুসলিম ছাত্রদের আসন সংরক্ষণসহ মুসলিম ছাত্রদের বহুবিধ উপকার করেন। তিনি বরিশালের ছারছিনা মাদ্রাসার উন্নয়নকল্পে অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন। তিনি কৃষক প্রজা আইন ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস করে এদেশের গরীব কৃষকদের প্রভূত উপকার করে গেছেন। এই দরদী নেতার একটি স্মরণীয় অবদান ঋণ সালিশী বোর্ড। তখনকার দিনে হিন্দু জমিদারগণ কড়া সুদে গরীব কৃষকদের সুদ দিত এবং এই সুদসহ টাকা সময়মত পরিশোধ না করতে পারলে গরীবের বাড়ীর মালামাল ক্রোক করে নিত। এতে অনেক সময় মানবেতর ও হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হতো। অকৃত্রিম মানবিক অনুভূতিসম্পন্ন এই নেতা হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য সচক্ষে অবলোকন করে তিনি ক্ষমতায় গিয়ে ঋণ সালিশী বোডের্র মাধ্যমে মহাজনদের ঋণের টাকা কিস্তিতে আদায় করার ব্যবস্থা করে গরীবদের মুক্তি দিয়েছিলেন। তাই তিনি আক্ষরিক ও মঞ্চের গরীবের নেতা ছিলেন না- তিনিই ছিলেন গরীবের প্রকৃত দরদী বন্ধু ও নেতা। ১৯৩৫ সালে নলিনী বাবুকে পরাজিত করে তিনিই কলিকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং কলকাতা কর্পোরেশনের উন্নতির চেষ্টা করে

আমাদের ইতিহাস গর্বেও ইতিহাস; আর সেই ইতিহাসে এশিয়া মহাদেশে যে কয়জন মনীষী উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত আবির্ভূত হয়ে বাঙালি জাতির মুক্তির দিক-নির্দেশনা দিয়ে গেছেন  শেরে বাংলা একে ফজলুল হক তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান। ১৭৫৭ সালের পর আমরা দুইশত বছর ইংরেজদের গোলামী  থেকে মুক্তির লÿÿ্য কোন না কোন ভাবে ব্রিটিশ- বেনিয়াদের গোলামীর জিঞ্জির মুক্ত করার জন্য যখন সারা ভারত ঐক্যবদ্ধ; তখন পাকিসত্মানের সাথে সাথে পূর্ব বাংলাও সোচ্চার ছিলো।  ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন নবাব সিরাজদৌলাহ্ নিহত হবার পর আমরা প্রায় দুইশত বছর অর্থাৎ ১৭৫৭ সাল হতে ১৯৪৭ সাল পর্যমত্ম ১৯০ বছর বৃটিশ শাসনে ছিলাম। তারপর ১৯৪৭ সালে আমরা বৃটিশমুক্ত হয়ে প্রথম স্বাধীনতা লাভ করি। কিন্তু ইতিহাসের সূক্ষ্ম বিশেস্নষণ ও গবেষণায় ১৯৪৭ সালের আরো দশ বছর পূর্বেই আমরা বাংলায় বাঙালি শাসক লাভ করি। সেই বাঙালি শাসকই হচ্ছেন শতাব্দীর ক্ষণজন্মা মনীষী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক। ইতিহাস কখনো মিথ্যে বলে না। সেই ইতিহাসের আয়নায় আমরা মুখ রাখলে দেখতে পাবো যে, ১৯৪৭ সালে বৃটিশরা ভারত ত্যাগ করবার দশ বছর আগেই আমরা এদেশে বাঙালি শাসকের সাক্ষাৎ লাভ করি। ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন পাস হবার ফলে উপমহাদেশে প্রাদেশিক স্বায়ত্ত শাসন প্রদান করা হয়। এর প্রাদেশিক স্বায়ত্ত শাসন আইনের ধারা অনুযায়ী প্রদেশের শাসনভার বৃটিশ গভর্ণর এর স্থলে নির্বাচিত প্রতিনিধির উপর অর্পণ করা হয়। ভারত শাসন আইনের আওতায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন নির্বাচনে ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ ও ‘মুসলিম লীগ’ যৌথভাবে সরকার গঠন করে এবং বাংলার মুক্তির দিশারী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ১৯৩৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং প্রায় ছয় বছর কাল মুখ্য মন্ত্রী হিসাবে আপামর জনগণের কল্যাণ সাধন করেন। এখানেই শেরে বাংলা নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন পাস হবার ফলে ১৯৩৭ সাল থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সাল পর্যমত্ম শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, খাজা নাজিম উদ্দিন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত ও দেশ পরিচালনা গোষ্ঠীর মাথায় কঠিনভাবে কুঠারাঘাত করে। অবিভক্ত বাংলায় তারা কিছুতেই বাঙালি নেতৃত্ব মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। কারণ তারা গৌণভাবে বাঙালী আর তারা মৌলিক ও মুখ্যভাবে হিন্দু। ভারতবর্ষে বৃটিশ আগমনের পূর্বে যেমন হিন্দুরা মুসলিম শাসন মেনে নিতে পারেনি ঠিক তেমনি বৃটিশ ভারত চলে যাবার পূর্ব মুহূর্তে অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম শাসন মেনে নিতে পারিনি। এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির সময় বাংলা ভাগ হয়।

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে মতানৈক্য ঘটায় ১৯৪১ সালে তিনি মুসলিম লীগ ত্যাগ করেন। পরে অবশ্য ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগে আবার যোগদান করেন। কিন্তু তিনি মুসলিম লীগের কোন বলিষ্ঠ নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেননি। পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বেই তিনি বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, জিন্নাহ সাহেব ও মুসলিম লীগের কাছে মুসলিম বাংলার স্বার্থ নিরাপদ নয়। তাই যে মুসলিম লীগের তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সেই মুসলিম লীগ ও মুসলিম লীগ নেতার বিরোধিতা করেন। তিনি একদিকে যেমন বৃটিশ সরকার ও হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে বাংলার মানুষদের স্বার্থ আদায় করেছেন; আরেকদিকে মুসলিম লীগ নেতা কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান, আইয়ুব খান, মোনায়েম খানসহ অনেকের-ই বিরোধিতা করেছেন।

অনবদ্য বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের জন্য নিবেদিত শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এখনো রয়েছেন এদেশের মানুষের হৃদয়ে। তিনি নিরমত্মর রাজনীতিক-সমাজসেবক-শিÿক ও মহান মনিষি হিসেবে বাংলা’র ইতিহাসে স্মরণিয় হয়ে থাকবেন। আমাদের রাজনীতি-ই শুধু নয় শিÿা-সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আনা নিবেদিত মানুষ শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক ১৯৬২ সনে ২৭শে এপ্রিল মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর মহাকর্মময় জীবনের প্রতি আমাদের নিমগ্ন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা…

পরিশেষে শেরে বাংলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরো স্মরণিয় করে রাখার প্রত্যয়ে আমাদের রাজধানী ঢাকাতে তাঁর নামে ‘শেরে বাংলা জাদুঘর’ করার জন্য সরকার ও সংশিস্নষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি…

 

মোমিন মেহেদী : আহবায়ক, নতুনধারা বাংলাদেশ(এনডিবি)

mominmahadi@gmail.com

 

 

 রিপোর্ট »শুক্রবার, ২৫ অক্টোবার , ২০১৩. সময়-৯:৪১ pm | বাংলা- 10 Kartrik 1420
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP