Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

রাউজানে যুগলের আত্মহনন,প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর ফলেই প্রেমিক যুগল পড়া লেখায় পিছিয়ে পড়ে

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর ফলে মেধাবী ছাত্রী সুখি আকতারের মেধার লোপ পায়। সুখির স্কুলের শিক্ষকদের সাথে কথাবলে জানাগেছে, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর থেকেই সুখী আকতার পড়া লেখায় খুবই ভাল ছিল। সে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিল। রোল নং-১ ছিল। এর পর থেকে ৭ম অষ্টম নবম শ্রেণীতেও ক্রমিকের ধারাবহিকতা ধরে রাখে মেধাবী সুখি আকতার। কিন্তু ক্লাস টেনে উঠনে গিয়ে সে হোচট খায়। দশম শ্রেণীতে উঠলে তার রোল দাঁড়ায়-১১তে। তার অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীরা মনে করেন, হয়তো প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর ফলেই মেধার লোপ পায় চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়ায় প্রেমিক যুগলের আত্মহুতি দেওয়া প্রেমিকা সুখী আকতারের। না যে ছাত্রী শুরু থেকে ক্লাসে নিয়মিত ভাল রেজাল্ট করে আসলে দশম শ্রেণীতে এসে কেন সে পিছিয়ে পড়ে। এরজন্য তারা রমজানের সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠাকেই দায়ী করেন। এ নিয়ে তার বিদ্যাপিঠ নোয়াপাড়া মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুখি শুরু থেকেই পড়া লেখায় ভাই ছাত্রী হিসেবে বিদ্যালয়ে সুনাম কুড়িয়েছিল। কিন্তু পরে হয়তো এসব প্রেমের সর্ম্পকে জড়ানোয় তার মেধা লোপ পায়। এদিকে রমজানও ভাল সাদাসিধে স্বভাবের ছাত্র ছিল। কিন্তু এসবে জড়ানোর পর কলেজেও সে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। রমজানের নোয়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী ছিল। সেখানে গিয়ে গত মঙ্গলবার তার বন্ধু বান্ধবদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রমজান ১ম বর্ষে নিয়মিত ছাত্র ছিল। লেখা পড়ায়ও তেমন একটা খারাপ ছিল না। কিন্তু ২য় বর্ষে এসে সে কলেজে অনিয়মিত ছাত্র হয়ে পড়ে। এসবের পেছনে সবাই তাদের প্রেমের সর্ম্পকেই দায়ী করছে। সুখির বড় ভাই কাইছার জানায়, বোন সুখি লেখাপড়ায় খুব ভাল ছিল। কেন জানি হঠাৎ সে বদলে যায়। সর্বশেষ সে এ পথ বেচে নেয়।

গত শুক্রবার ঘটনার পর থেকে প্রতিদিনই উপজেলার হাটে-বাজারে, অফিস পাড়ায় দুই তরতাজা প্রাণ বিসর্জনের মত বিরল ঘটনার বিভিন্ন বিশ্লেষন শোনা যাচ্ছে। অনেকে বিশ্লেষণ করছেন কেন তারা নিজের প্রাণ একসঙ্গে দিল। রাউজানের বাইরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়ও এই বিষয়টি নিয়ে লোকমুখে শোনা গেছে এই প্রেমিক- প্রেমিকার আত্মহননের বিষয়ে নানা কথা।

 

এদিকে ঘটনার চারদিন অতিবাহিত হলেও প্রেমিক-প্রেমিকার আত্মহুতির ঘটনাটি এখনো রাউজানে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আছে। পাশাপাশি প্রেমিক যুগলের বিশেষ বিশেষ মুহুর্তের ছবি স্কুল কলেজ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীদের মোবাইলে মোবাইলে ব্লুটুথের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে খুব দ্রুত। যাতে আছে তাদের প্রেম ঘটিত বিভিন্ন মহুর্তের ছবি। এসব ছবি দেখে অনেকে নানান ধরনের মন্তব্য করছেন। পাশাপাশি এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ায় সমাজে অনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারনা করছেন এলাকার লোকজন।

অন্যদিকে এ ঘটনা নিয়ে রাউজানের স্কুল, কলেজ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাঝে চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠা ও ভয়ভীতির সঞ্চার হয়েছে। কারণ তাদের ছেলে মেয়েরাও হয়তো কারো সঙ্গে এ ধরনের প্রেমের সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়তে পারে। আর তাতে অভিভাবকরা বাধা দিলে হয়তো এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ শঙ্খায় আছেন এখানকার হাজার হাজার অভিভাবক। তবে এ ঘটনায় অনেকে তাদের উভয় পরিবারের অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করে আসছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর আগে রমজানের বড় ভাই আজগর সুখীর বড় বোন লাকিকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পালিয়ে বিয়ে করে। এ বিয়ে সুখী ও আজগরের পরিবার উভয়ের কেউই মেনে নেয়নি। তারা দুজনেই এখনো বাড়ী ছাড়া। পরিবারের অবহেলায় ভাড়া বাসায় দিনযাপন করেন তারা। এখনো তাদের সাথে সুখীর পরিবারের সঙ্গে সর্ম্পক বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কিন্তু এর মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে আজগরে ছোট ভাই রমজানের সঙ্গে লাকি আকতারের ছোট বোন সুখীর। সম্পর্ক সৃষ্টির পর তারা নিজেরা প্রায় সময় হতাশা বোধ করতো। কারণ বড় ভাই আর বড় বোনের সর্ম্পক যেখানে তাদের উভয় পরিবার মেনে নেয়নি সেখানে তাদের সর্ম্পক মেনে নেওয়ার তো প্রশ্নই আসেনা। কারণ সুখির বড়বোন প্রেম করে রমজানের ভাইয়ের সাথে পালিয়ে যাওয়ায় সুখির পরিবার লাকি আকতারকে মেয়ে হিসেবে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। রমজানের পরিবার আজগরকেও ঘরছাড়া করেছে। আর এখন তারাও প্রেমে জড়িয়ে পড়ছেন। তাদের প্রেম কথায় গড়াবে এই হতাশা থেকেই তারা আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন বলে স্থানীয়দের ধারনা।

এই ডিজিটাল যুগেও যে প্রেমের জন্যে একসঙ্গে প্রেমিক-প্রেমিকা আত্মহুতি দেয় সেটা অভিশ্বাস্য ছিল সবার কাছে। সেরকম এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়ে রাউজানের নোয়াপাড়ার, কলেজ ও স্কুল পড়ুয়া রমজান এবং সুখি সবাইকে মর্মাহত করেছে। সেই সাথে তাদের পরিবার ও স্বজনরা হয়েছে ছেলে ও মেয়ে হারা। এলাকার মানুষ এই ঘটনাকে রাউজানের বুকে আরো একটি কালিমা (দাগ) বলে মনে করছেন। কারণ এ ধরনের লোমহর্ষক ঘটনা রাউজানে এই প্রথম ঘটলো।

এদিকে সামাজিক মাধ্যম গুলোতে এই বিষয় নিয়ে আরো বেশি আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ফেসবুক, টুইটার, মোবাইলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে।Raozan-sucaid-pic-

এদিকে দুই প্রেমিক-প্রেমিকার আত্মদানের চারদিনেও শোক কাটছেনা নোয়াপাড়া চৌধুরীহাট এলাকার বারই পাড়া গ্রামের হাজি মকবুল সওদাগরের বাড়িতে। এই বাড়ির দুই পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা শোকে মুহ্যমান এখনো। বাড়ির বাসিন্দা নুরুল আবছার বলেন, ‘রমজান ও সুখির মৃত্যুর পর থেকে রমজানের পরিবারের অনেকে তার শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা আহাজারি করতে করতে জ্ঞান হারিয়েছে। সুখির পরিবারেও চলছে শোকের মাতম। সুখির আত্মহত্যার কথা শুনে দুই ভাই মোহাম্মদ হাসান ও আরমান ওমান-আবুধাবি থেকে বোনকে এক নজর দেখতে ছুটে আসে। রমজান ও সুখির সহপাঠীরাও এই ঘটনা ভুলতে পারছে না। সোমবার বিকালে রমজানের কিছুদিনের কর্মস্থল নোয়াপাড়া পথেরহাটের খায়েজ শপিং সেন্টারের ২য় তলার বিগ বস নামক একটি জেন্টস সামগ্রির দোকানে গিয়ে কথা বলে জানা যায়, রমজান গত ঈদের আগ থেকে সেখানে একমাস সেলম্যানের চাকুরী করে। মানিক নামের দোকানের এক কর্মচারী বলেন, রমজান খুব ভাল ছেলে ছিল। সে খুব সিদে সাধা স্বভাবের আচরণ করতো। সে কখনো প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে কোন কিছু আমাদের সাথে শেয়ার করেনি। তবে দেখতাম প্রায় সময় সে মোবাইলে এসএমএস আর সার্কেল নিয়ে ব্যস্ত থাকতো।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকার বারই পাড়া গ্রামের হাজী মকবুল সওদাগরের বাড়ির রমজান আলী (২০) ও সুখী আকতার (১৬) নামের দুই প্রেমিক যুগল গত বৃহষ্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ২টার দিকে বাড়ীর পিছনের পুকুর পাড়ের একটি জামগাছে একসঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। এসময় তারা একটি চিরকুট লিখে যায়। পরে চিরকুটের লেখা অনুযায়ী তাদের পাশাপাশি শেষ শয্যায় শায়িত করা হলেও ময়না তদন্ত শেষেই তাদের লাশ দাফন করা হয়। রমজান নোয়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র ও সুখী নোয়াপাড়া মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াপাড়া পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ টুটন মজুমদার বলেন, পারিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেবেনা এই ভয়েই তারা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে ময়না তদন্ত রির্পোট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে অন্যকোন কারণ আছে কিনা তা দেখতে।

 

আত্মহত্যার আগে তারা একটি চিরকুটে যা লিখে গেছে

‘‘মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ি নয়। সবার কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ। আমাদের দেহগুলো দয়া করে কাটতে দিবেন না (ময়না তদন্ত করবেন না)। পাশাপাশিই আমাদের কবর দিবেন। আর সবাই আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আমরা একজন আরেকজনকে ছাড়া বাঁচতে পারবোনা। তাই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম। বেঁচে থাকতে তো কেউ আমাদের এই সর্ম্পক মেনে নেবেনা। বাবা মায়ের অবাধ্য হয়ে তাদের মনেও কষ্ট দিতে পারবো না তাই এই পথ বেঁচে নিতে বাধ্য হলাম দুজন’’।

ইতিঃ রমজান + সূখী।

 

 রিপোর্ট »বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বার , ২০১৩. সময়-১১:০৫ pm | বাংলা- 10 Ashin 1420
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP