Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

ডাক্তাররা বহুরূপী : হাসপাতালে গেলে অবহেলা ক্লিনিকে গেলে জামাই আদর

ইয়ানুর রহমান, শার্শা, (যশোর)ঃ ১৩ অক্টোবর। যশোরের শার্শা উপজেলার একমাত্র আশা ভরসার স্থল শার্শা উপজেলা (বুরুজ বাগান) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। কিন্তু এ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে রোগীদের অভিযোগের অন্ত নেই। একদিকে সেবার পরিবর্তে বাণিজ্যিক মানসিকতা, অন্যদিকে অনিয়ম অব্যবস্থাপনা হাসপাতালটিকে বর্তমান এ পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়েছে।

যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু জনবল তুলনামুলকভাবে কমের কারনে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শার্শা উপজেলার একমাত্র এ হাসপাতালটির অভ্যন্তরে ঘুরে দেখা গেছে, ৩১ শয্যার এ হাসপাতালটিতে প্রতিদিনই গড়ে ৫০টি থেকে ৬০টি রোগী ভর্তির জন্য আসেন। আর বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নেন গড়ে প্রতিদিন ঢেঢ় শ’ থেকে ২শ রোগী।

এ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাসির উদ্দিন জানান, হাসপাতালের অন্তঃবিভাগের ৩১ রোগীর যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের সক্ষমতা তাদের রয়েছে, তা দিয়েই ৫০ থেকে ৮০ জন রোগীর সেবা দিতে হয়। আর বহির্বিভাগের এক একজন ডাক্তারকে ১শ থেকে দেড়শ রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিতে হয়। একারণেই সময় বেশি লাগায় অনেক সময় কিছু রোগীরা ক্ষুব্ধ হন।

তবে হাসপাতাল নিয়ে রোগীদের অভিযোগও কম নয়। হাসপাতালের কতিপয় চিকিৎসক, কর্মচারীসহ দালাল গোষ্ঠীর কারণে প্রতিনিয়তই নাজেহাল হচ্ছেন এখানে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

অনেক সময় চিকিৎসকের অবহেলার কারণে তার স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন এমন ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত।

বহিরাগত এবং হাসপাতালের কর্মচারী বেশে দালালরা কৌশলে রোগীদের পাঠিয়ে দিচ্ছেন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। আবার হাসপাতালের মালিও চিকিৎসক সেজে দিচ্ছেন রোগীর পরামর্শপত্র।

হাসপাতালে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সংকট, রয়েছে দু’একটি পদের চিকিৎসকও সংকট। এখানকার বাথরুমগুলোর নোংরা পরিবেশ, ওয়ার্ডে দুটির দুর্গন্ধে রোগীদের নাভিশ্বাস হলেও পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটে না।

জরুরীবিভাগ: গত ২২ সেপ্টেম্বর শার্শার বসন্তপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম হাসপাতালে আসেন গ্যাসের জন্য চিকিৎসক দেখাতে। নিয়মমত জরুরী বিভাগে যায় চিকিৎসককে দেখাতে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও চিকিঃসকের দেখা মেলেনি।

তিনি জানান, আমিসহ আরো ৫জন রোগী দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করলেও ডিউটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সেখানে আসেনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, হাসপাতালের বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বারে বসে দালালদের পাঠানো রোগীর চিকিৎসায় ব্যস্ত রয়েছে তিনি।

এসময় জরুরী বিভাগে  চিকিৎসা সেবা নিতে আসা আরও কয়েকজন রোগী জানান, অধিকাংশ চিকিৎসকই জরুরী বিভাগে আসেননা। ফলে রোগীরা সেবা বঞ্চিত হয়ে ক্লিনিকে আশ্রয় নেয়।

এদিকে, হাসপাতলে অন্তঃবিভাগের বাথরুম ও কয়েকটি ওয়ার্ড ঠিকমত পরিস্কার না করায় সেগুলো যেন ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। অথচ এ কাজের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট কর্মচারী। হাসপাতাল কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকায় কর্মচারীরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে না বলেও ভর্তি রোগীদের অভিযোগ।

দালাল চক্র: হাসপাতাল এঅভ্যন্তরে দুই ধরণের দালাল চক্রের অবস্থান থাকে সব সময়। এর একটি গ্রুপ ফার্মেসির দালাল, অন্যটি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল। হাসপাতালে ভর্তির জন্য কোনো রোগী আসলেই হামলে পড়ে ফার্মেসির দালালরা। রোগীর ট্রলি ধরে ওয়ার্ডে নিয়ে সহযোগিতা করে প্রথমে এরা স্বজনদের আস্থাভাজন হয়। এরপর বুঝিয়ে শুনিয়ে নিয়ে যায় ওষুধের দোকানে। অতি আপনজনের মতো বাকিতেও ওষুধ দেয়।

কিন্তু পরে দামের হিসাব কষার সময় শুরু হয় কারিশমা। একেকটি ওষুধের দাম দ্বিগুণ, তিনগুণ ধরে হিসেব করে রোগীর স্বজনদের গলাকাটা হয়। আর এর কমিশনও বুঝে পান ‘রোগী ধরে আনা দালাল’।

অন্যদিকে, প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা সুযোগ বুঝে রোগীর স্বজনদের ভাগিয়ে নিয়ে যায় ক্লিনিকে। ‘হাসপাতালের এক্সরে মেশিন ভালো না থাকায় এখানে রিপোর্ট ভাল হয় না’- এটা দালালের মুখের বুলি।

শার্শার দুর্গাপুর প্রামের আলিমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬০) হাসপাতালের বহির্বিভাগে এসেছিলেন ডাক্তার দেখাতে। টিকিট কাউন্টারের সামনে গিয়ে তিনি চিহ্নিত দুই দালালের খপ্পরে পড়েন।

দালালরা তাকে ভুল বুঝিয়ে সরকারি হাসপাতালের ১শ’ গজের মধ্যে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষার নামে হাতিয়ে নেয় ২২শ’’ টাকা। দালাল দু’জন উধাও হওয়ার পর তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।

শার্শার সম্মন্ধকাঠি গ্রামের গৃহবধূ সানজিদা আক্তার হাসপাতালে এসেছিলেন গাইনি চিকিৎসক দেখাতে।

তিনি জানান, আর্থিক অবস্থাও খুব বেশি ভালো না হওয়ায় তিনি সরকারি হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু এ মহিলা চিকিৎসক শার্শার আলোচিত একটি ক্লিনিকে নিয়মিত বসেন।

প্রথমেই একগাদা টেস্ট লিখে তিনি দেন পরীক্ষার জন্য। ৪ হাজার টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা নিয়েও তিনি সুস্থ না হওয়ায় ওই ডাক্তার দেখাতে তার প্রাইভেট ক্লিনিকে যান। সেখানে যাওয়ার পর ওষুধ বদলে দেওয়ায় তিনি কিছুটা সুস্থ হয়েছেন।

একই অঙ্গে বহুরূপ: গৃহবধূ সানজিদা আক্তারের মতো অনেকেরই অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক মাথা তুলেও দেখেন না। দু’একটি সমস্যা শুনেই ওষুধ বা টেস্ট লিখতে শুরু করেন। তারপরও রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থ হন। আর প্রাইভেট ক্লিনিকে সেই চিকিৎসকই অতিদ্রুত সেই রোগীর রোগ নির্ণয় করে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। সরকারি হাসপাতালে গেলে যে চিকিৎসক মাথা তোলেন না, প্রাইভেট ক্লিনিকেই তার ব্যবহারে থাকে মধু মেশানো। কারণ একটাই, সরকারি হাসপাতালে গেলে রোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। অন্যদিকে, প্রাইভেট ক্লিনিকে গেলে ক্লিনিক মালিকও খুশি হন, চিকিৎসকেরও পকেট ভারী হয়। বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মালিক ও চিকিৎসকের সমঝোতায় বর্তমানে এ ব্যবসা জমজমাট।

সমস্যা সংকট: শার্শার এ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। যার কারনে এখানে কোন অপারেশন দীর্ঘদিন হয় না।

৮৮ লাখ টাকা মুল্যের একটি এক্সরে মেশিন নষ্ট হয়ে রয়েছে। ২ বছরেরও এটি মেরামত করা হয়নি।

হাসপাতালে নিউরো (মেডিসিন), নিউরো (সার্জারি), শিশু, গাইনী ও দন্ত বিশেষজ্ঞ পদগুলো খালি রয়েছে। এছাড়াও অধিকাংশ যন্ত্রপাতি বছরের একটি বড় সময় ধরে নষ্ট থাকে।

 

মালি যখন হাসপাপতাল তত্বাবধায়কের গাইড : হাসপাতালে মালির দায়িত্বে থাকা কামরুল হাসপাতাল তত্ববধায়ক ডাঃ নাসির উদ্দিনের গাইডের দায়িত্ব পালন করে আসছে তার যোগদানের পর থেকেই। হাসপাতালে মালি পদে কর্মরত কামরুল গাইডের কাজ করার সুযোগে সর্বময় কর্তাব্যক্তি সেজে চিকিৎসক কর্মচারীদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে চরছে।

কর্মকর্তার বক্তব্য: হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাসির জানান, কিছু সমস্যা সংকট নিয়েই সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

এক্সরে মেশিনটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘৮৮ লাখ টাকা দামের মেশিনটি দীর্ঘদির নস্ট রয়েছে। নস্ট হলে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি লিখেন, এরপর সংশ্লিষ্টরা ঠিক করে দিয়ে যাননি।

হাসপাতালের দালাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতাল চত্বর ও চত্বরের বাইরে দালালদের তৎপরতা রয়েছে। এ চক্রটি শক্তিশালী হওয়ায় অনেক সময় হাসপাতাল কতৃপক্ষ এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পায় না। তারপরও সকলের সহযোগিতায় তারা চেষ্টা করছেন হাসপাতালে দালালদের তৎপরতা কমিয়ে আনতে।

সেবার মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালের সক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ রোগীকে তাদের সামলাতে হয়। ফলে আন্তরিকতা থাকলেও অনেক সময় সব রোগীকে দ্রুত সময়ে যথাযথ সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু তারপরও তারা আন্তরিক বলেই বিপুল পরিমাণ রোগী এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন।

 রিপোর্ট »শনিবার, ১৩ অক্টোবার , ২০১২. সময়-১০:২৬ pm | বাংলা- 28 Ashin 1419
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP