Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

ঝিনাইদহে চার দশকে ৪০ হাজার নরনারীর আত্মহত্যা

আরিফুল আবেদীন টিটো, ঝিনাইদহঃ আত্মহত্যা প্রবন ঝিনাইদহ জেলায় স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪ দশকে কমপক্ষে ৪০ হাজার নরনারী আত্মহত্যা করেছেন। এসময় অন্তত: ৫৫ হাজার নরনারী আত্মহননের চেষ্টা করে বেঁচে গেছেন।

ঝিনাইদহের পুলিশ বিভাগ, বিভিন্ন হাসপাতাল ও আত্মহত্যা নিয়ে গবেষনাকারী প্রতিষ্ঠান সুত্রে এই তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে আত্মহত্যার চরম ঝুঁকিপূর্ন জেলা হিসেবে ঝিনাইদহ পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এই জেলায় বিপুল সংখ্যক নরনারী বিভিন্ন পন্থায় আত্মহত্যা করেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০০ সালের পর আত্মহত্যা চেষ্টাকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও উন্নত চিকিৎসা ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কমে এসেছে মৃত্যু হার। ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের দপ্তরে ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত আত্মহত্যার কোন রেকর্ড না থাকলেও এই সময়ে অপমৃত্যুর সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি বলে মনে করেছেন সংশি­ষ্টরা। কারণ হিসেবে চিকিৎসক ও পুলিশ সুত্রে বলা হচ্ছে, এই সময়টিতে চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অনুন্নত। ফলে আত্মহননকারীদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব ছিল না।

ঝিনাইদহের ৬টি থানায় পুলিশের রেকর্ডকৃত অপমৃত্যু মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১২ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩৪৮ জন আত্মহত্যা করেছেন। এরমধ্যে ১৯৮৮ সালে ৭৪২ জন, ১৯৮৯ সালে ৭৪৫ জন, ১৯৯০ সালে ৮০৯, ১৯৯১ সালে ৮৮৫, ১৯৯২ সালে ৭৯৪ জন, ১৯৯৩ সালে ৯০১ জন, ১৯৯৪ সালে ৭০৭ জন, ১৯৯৫ সালে ৭২৫ জন, ১৯৯৬ সালে ৮০৮জন, ১৯৯৭ সালে ৭১৩ জন, ১৯৯৮ সালে ৭৯০ জন, ১৯৯৯ সালে ৭১২ জন, ২০০০ সালে ৬৫৭ জন। ২০০১ সালে ৫৯৭ জন, ২০০২ সালে ৭৮০ জন, ২০০৩ সালে ৭২০ জন, ২০০৪ সালে ৬৭০ জন, ২০০৫ সালে ৫৫০ জন, ২০০৬ সালে ৪২৯ জন, ২০০৭ সালে ৪০১ জন, ২০০৮ সালে ২২৬ জন, ২০০৯ সালে ২২১ জন, ২০১০ সালে ৩১৬ জন এবং ২০১১ সালে ৩০০ জন।

ঝিনাইদহের বিভিন্ন এনজিও সংস্থার গবেষনায় বলা হয়েছে, ২০১২ সালের প্রথম ৬ মাসে জেলায় ১২০৯ জন আত্মহত্যর চেষ্টা করেন। এরমধ্যে ১৫০ জনের মৃত্যু হয়। সংস্থাগুলোর গবেষনা তথ্যে উলে­খ করা হয়েছে, গত সাড়ে ৮ বছরে জেলায় ২০ হাজার মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এরমধ্যে ৩ হাজার ১’শ ১৩ জন নরনারীর মৃত্যু হয়। এনজিও কর্মী জাহিদুল ইসলাম জানান, সংস্থাগুলো আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা ও দক্ষতামুলক কার্যক্রম চালিয়ে সফল হয়েছে। তিনি জানান, পারবিারিক কলহ নিরসন ও হতাশা গ্রস্থদের পাশে দাড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেই আত্মহত্যার প্রবনতা কমে আসতে পারে। তাদের মতে কীটনাশকের সহজ লভ্যতা, আত্মহত্যার ঘটনা শুনে প্রভাবিত হওয়া, অতিরিক্ত আবেগ প্রবন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ও জীবন যাপনের কষ্ট থেকে মানুষ আত্মহত্যার পথে পা বাড়ায়। আত্মহত্যার কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন অনুসন্ধ্যানকারী ঝিনাইদহের প্রবীন সংবাদ কর্মী বিমল কুমার বলেন, আত্মহত্যা ঝিনাইদহ জেলার জন্য একটি অভিশাপ। তিনি জানান, ২০০০ সালের আগে ঝিনাইদহ জেলায় বছর প্রতি গড়ে ১০০০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু উন্নত চিকিৎসা ও ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই হার এখন কমে আসছে। তিনি জানান, কৃষকের ঘরে কীটনাশকের সহজ লভ্যতা ও তুচ্ছ ঘটনায় আবেগ প্রবন হয়ে এই জেলার মানুষ হরহামেশা আত্মহত্যার পথ বেচে নেয়। কিন্তু এই পন্থা অবলম্বনকারীদের মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসলেও চেষ্টাকারীদের সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার কর্মী অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান টুকু জানান, এই অঞ্চলের মানুষ আবেগ প্রবন। তাছাড়া পারিবারিক কলহ, আর্থ সামাজিক সমস্যা, দরিদ্রতা, অশিক্ষা, প্রেমে ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। তিনি বলেন, এ অভিশাপ থেকে পরিত্রান পেতে হলে দরিদ্রতা ও নিরক্ষরতা দুর করতে হবে এবং সামাজিকভাবে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. নাসরিন সুলতানা জানান, ঝিনাইদহ অঞ্চলে আত্মহত্যা প্রবনতাটা এমনিতেই একটু বেশী। হতে পারে এই অঞ্চলের মানুষ আবেগ প্রবন। তবে পারিবারিক সমস্যা, সংসারে অশান্তি, প্রেম ঘটিত ব্যাপারই আত্মহত্যার ক্ষেত্রে বেশী কাজ করে থাকে। দারিদ্র বিমোচন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিরক্ষরতা দুর করার মাধমে আত্মহত্যা প্রবনতা রোধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। অপরদিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সিনিয়র মেডিসিন বেশেষজ্ঞ ডাঃ শেখ আব্দুল ফাত্তাহ জানান, শরীরে কিছু হরমন আছে যা মানুষের ক্রোধ, হাসি, কান্না ও আবেগকে নিয়ন্ত্রন করে। এ রকম একটি হরমন থাইরক্সিন। থাইরয়েড গ­্যান্ট থেকে এই হরমন তৈরী হয়। তিনি জানান, অনেক সময় হরমন বৃদ্ধি ও হ্রাসজনিত কারণে মানুষ আত্মহত্যা করতে পারে। তাই হরমন পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে আত্মহত্যা প্রবনতা কমানো সম্ভব বলে ডাঃ ফাত্তাহ অভিমত প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ পুলিশের কোন কর্মকর্তা মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে সরাসরি রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এখানকার মানুষ আবেগ প্রবন হয়ে আত্মহত্যা করে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও সু-শিক্ষাই এই প্রবনতা হ্রাসের একমাত্র পথ। #

 রিপোর্ট »শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বার , ২০১২. সময়-১০:৫৬ pm | বাংলা- 6 Ashin 1419
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP