Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

পাবনা ও সিরাজগঞ্জে ভেজাল দুধ ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া : নকল দুধে বাজার সয়লাব

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পাবনা :

পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার লিটার নকল দুধ। রমজান মাসে দুধের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা ব্যাপক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নকল দুধ তৈরি করে বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করছে। ছানার পানি, ক্ষতিকর স্কিম মিল্ক পাউডার, ফরমালিন, চিনি, সোডা, দুধের ননীসহ নানা উপকরণ মিশিয়ে এই নকল দুধ উৎপাদন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ দুটি জেলায় ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার দুগ্ধ খামার রয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গরু পালন করে দুধ উৎপাদন করা হয়। এ অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার লিটার দুধের চাহিদা রয়েছে। রমজান মাসে দুধের চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় চার লাখ ২২ হাজার লিটার। প্রতিদিন দুধ উৎপাদন হচ্ছে তিন লাখ ২০ হাজার লিটার। এ হিসেবে প্রতিদিন দুধের ঘাটতি পড়ে প্রায় ৮০ হাজার লিটার। এক শ্রেণীর অসাধু ঘোষ ও ব্যবসায়ী নকল দুধ তৈরি করে দুধের এই ঘাটতি পূরণ করছে বলে জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী বড়াল নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা মিল্কভিটাকে কেন্দ্র করে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে প্রায় আট হাজার গো-খামার গড়ে উঠেছে। এই দুগ্ধ অঞ্চলকে টার্গেট করে মিল্কভিটার পাশাপাশি প্রাণ ডেয়ারি, আকিজ ডেয়ারি, আফতাব ডেয়ারি, ব্র্যাক ডেয়ারি ফুড (আড়ং), আমো ফ্রেস মিল্কসহ বেশ কিছু বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান দুধ সংগ্রহ করতে এ অঞ্চলে তাদের আঞ্চলিক দুগ্ধ সংগ্রহশালা স্থাপন করে। এর ফলে তরল দুধের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। দুধ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় ছানা উৎপাদক এবং এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে নকল দুধ তৈরি করে আসল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করে চক্রটি প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলে উৎপাদিত দুধের মধ্যে এক লাখ ৫০ হাজার লিটার বাঘাবাড়ী মিল্কভিটা, এক লাখ ৩০ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার লিটার দুধ আফতাব, আকিজ, প্রাণ ও ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান, ঘোষরা ৪০ থেকে ৪৫ হাজার লিটার, প্রায় দুই শতাধিক মিষ্টির দোকান ১০ হাজার লিটার, হাট-বাজারে স্থানীয় ক্রেতারা ৮ হাজার লিটার দুধ ক্রয় করে থাকে।

রমজান মাসে স্থানীয় হাট-বাজারে দুধের চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ হাজার লিটারে। এছাড়া বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ সময় অতিরিক্ত ৫০ হাজার লিটার দুধ কিনছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, বেলকুচি ও কাজীপুর উপজেলার ৬০টি ছানা কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ২৬০ মন ছানা তৈরি হয়। ওই পরিমাণ ছানা তৈরিতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মণ দুধের প্রয়োজন হয়। ঘোষেরা ছানা তৈরির পর ছানার পানি ফেলে না দিয়ে তা মজুদ করে রাখে। পরে ওই ছানার পানি দিয়ে তৈরি করা হয় নকল দুধ। সরজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ছানা কারখানার ছানার পানিই নকল দুধ তৈরির প্রধান উপকরণ। কতিপয় আসাধু ব্যবসায়ী ও ঘোষ প্রতি মণ ছানার পানিতে এক কেজি দুধের ননী, সামান্য পরিমান লবণ, খাবার সোডা, ১ কেজি চিনি ও দুধের কৃত্রিম সুগন্ধি মিশিয়ে অবিকল দুধ তৈরি করছে, যা রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া আসল না নকল বোঝার উপায় থাকে না। ছানার পানি ছাড়াও অন্য এক পদ্ধতিতে অসাধু ঘোষ ও ব্যবসায়ীরা নকল দুধ তৈরি করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক মণ ফুটন্ত পানিতে এক কেজি দুধের ননী, আধা কেজি স্কিম মিল্ক পাউডার, বাটার অয়েল, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, এক ফোঁটা ফরমালিনসহ বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করা হয়। ক্ষতিকর স্কিম মিল্ক পাউডার ভারত থেকে সীমান্ত পথে দেশে প্রবেশ করছে। সূত্র জানায়, অসাধু ঘোষ ও ব্যবসায়ীরা দুধে ফরমালিন ও স্কিম মিল্ক পাউডার ব্যবহার করে। এতে দুধের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং দুধ পচন রোধ করে তাজা রাখে। ফলে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকালে ল্যাকটোমিটার দিয়ে এই সূক্ষ্ম প্রতারণা ধরা সম্ভব হয় না। তবে সংশ্লিষ্টরা নকল দুধ তৈরি, ক্রয়-বিক্রয় ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কথা অস্বীকার করেছেন।

বেড়ার আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেডের স্থানীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাক আহম্মেদ জানান, রমজান মাসে দুধের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দুধ ক্রয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সরাসরি গো-খামারিদের কাছ থেকে কোম্পানির নিজস্ব কর্মচারী দ্বারা আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে ভেজালমুক্ত দুধ সংগ্রহ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। প্রাণ ডেয়ারির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শরিফ উদ্দিন তরফদার, ব্র্যাক ডেয়ারি এন্ড ফুড প্রোডাক্টস দুগ্ধ ক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. বাসার আলীসহ স্থানীয় ক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকরা নিজেদের দুধ সংগ্রহ পদ্ধতি শতভাগ ভেজালমুক্ত বলে দাবি করেছেন।

এব্যাপারে ডা. আব্দুল বাছেদ খাঁন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিষাক্ত দুধ পান করলে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। ফরমালিন মেশানোর ফলে হেপাটোটক্সিকিটি বা লিভার রোগ, কিডনি রোগ, স্কিম মিল্ক পাউডারের ফলে মানবদেহে হাড়ের মধ্যকার দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। এরফলে শরীরের পেছনের অংশে ব্যথা অনুভব, চর্মরোগ, হজমে সমস্যা, পেটের পীড়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

 রিপোর্ট »সোমবার, ২৩ জুলাই , ২০১২. সময়-১০:৩৯ pm | বাংলা- 8 Srabon 1419
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP