Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

পাবনায় চালের বাজারে দরপতন: ব্যবসায়ীরা দিশেহারা

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পাবনা :

দেশের অন্যতম ধান-চালের মোকাম পাবনার ঈশ্বরদীতে চালের বাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। অব্যাহত দরপতনের ফলে এ এলাকার ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এদিকে, চালের বাজারের এ ধসে প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্থানীয় শাখাগুলোতেও।

দেশের অন্যতম ধান-চালের প্রসিদ্ধ মোকাম পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর, সাহাপুর, দাশুড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭শ ধানের চাতাল ও রাইস মিল রয়েছে।

মোকামের ব্যবসায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, এসব মিল ও চাতাল থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি টাকার ধান-চাল কেনাবেচা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই কেনাবেচা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ঈশ্বরদী উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস জানান, ঈশ্বরদীর এই চালের মোকাম থেকে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, সীতাকুন্ড, লাকসাম, খুলনা, বরিশাল, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাল পাঠানো হয়। তিনি জানান, আগে প্রতিদিন এ মোকামে যেখানে কয়েক কোটি কোটি টাকার লেনদেন হতো, বর্তমান সময়ে সেই লেনদেন অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। বাজারে চালের দাম অস্বাভাবিকে নেমে আসায় এ অবস্থা হয়েছে জানিয়ে সাদেক আলী বিশ্বাস বলেন, ঈশ্বরদী মোকামে ৮৪ কেজি ওজনের ১ বস্তা ব্রিআর-২৯ চালের দাম ২ হাজার ১শ টাকা থেকে নেমে ১ হাজার ৯৮০ টাকা, ব্রিআর-২৮ চালের বস্তা প্রতি দাম ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে কমে ২ হাজার ৫০ টাকা, মিনিকেট চালের বস্তাপ্রতি দাম ২ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৮০ টাকায় নেমে এসেছে।

দিন দিন এ অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে। বর্তমানে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন চাতালে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন চালের মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি। চালের দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ার কারণ বলতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারের গুদামে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি চালের মজুদ রয়েছে। বিপুল পরিমাণ চাল মজুদ থাকায় ও গুদামগুলোতে জায়গা না থাকায় সরকারের পক্ষ থেকেও চাল কেনা হচ্ছে ধীরগতিতে।

চাল ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এ অবস্থায় সরকার টিআর বা কাবিখা প্রকল্পের আওতায় চাল বিতরণ শুরু করলে চালের বাজার আরও কমতে পারে। সে কারণে তারা নিজেদের গুদামেও চাল কিনে মজুদ করতে পারছেন না। কারণ, কোনো গোদামেই চাল ৬ মাসের বেশি মজুদ রাখলে চালের মান ঠিক রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে। এদিকে ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে গুদামজাত ধান সিদ্ধ করে চাতালে শুকানো যাচ্ছেনা। এর ফলে, একদিকে সিদ্ধ করা ধান চাতালে বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে।

অপরদিকে, গুদামে রাখা ধানের বস্তায় চারা গজাচ্ছে। ওই ধানগুলো চাল হিসেবে কিংবা ধানের চারা হিসেবে কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাচ্ছেনা। এতে করে ব্যবসায়ীরা চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ঈশ্বরদী উপজেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ খায়রুল ইসলাম বলেন, ঈশ্বরদী মোকামে চাল ক্রেতার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। উৎপাদন করা চাল বিক্রি না হওয়ায় প্রতিদিনই গুদামে চালের মজুদ বাড়ছে। আবার মজুদ বাড়লেও চাল উৎপাদন বন্ধ করা যাচ্ছেনা।

ঈশ্বরদী উপজেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল জানান, অব্যাহত দরপতন ও লোকসানের কারণে তারা ব্যাংকে টাকা রাখতে পারছেন না। প্রতি মৌসুমে তারা চাল বিক্রি করে ব্যাংক থেকে গ্রহণ করা ঋণের সিসি অ্যাডজাস্ট করতেন আর উদ্বৃত্ত টাকা সঞ্চয় করতেন। বর্তমানে অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, সিসি অ্যাডজাস্ট বা সঞ্চয় দূরে থাক, তাদের এখন সঞ্চয় করা টাকা ব্যাংক থেকে তুলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈশ্বরদীর অধিকাংশ চাল ব্যবসায়ীদের লেনদেন হয় ঈশ্বরদী শাখা ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। এসব ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে  জানান, আগে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন প্রতিটি ব্যাংকে গড়ে ১ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতেন যা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রগুলো জানায়, সারাদেশের বিভিন্ন এলাকার চাল ব্যবসায়ীরা ঈশ্বরদীর এসব ব্যাংকে টিটির মাধ্যমে চাল কেনার জন্য যে পরিমাণ টাকা পাঠাতেন, সেসব টাকা ঈশ্বরদীর ব্যবসায়ীদের নগদ প্রদানের ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যেই ঈশ্বরদীর একাধিক ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট দেখা দিতো, তখন তারা আশেপাশের শাখা থেকে নগদ টাকা সংগ্রহ করতে বাধ্য হতেন। অথচ এখন ব্যাংকে টাকা লেন-দেন কমে যাওয়ায় আগের পরিস্থিতি আমুল পাল্টে গেছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা খাদ্য গুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা (এসএমও) রইচ উদ্দিন জানান, ঈশ্বরদী উপজেলায় সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার ৯১৩ মেট্রিক টনের বিপরীতে রোববার পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। পাবনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুর রকিব জানান, এ বছর মে মাসের ৩ তারিখ থেকে শুরু হওয়া চলতি সংগ্রহ মৌসুমে পাবনা জেলায় মোট ৪৩ হাজার ২৪৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগ্রহ অভিযান চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

 

 রিপোর্ট »শুক্রবার, ২০ জুলাই , ২০১২. সময়-৯:৫৬ pm | বাংলা- 5 Srabon 1419
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP