Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

ঢাবি’র মেধাবী ছাত্রী মাশহুদার বাবার বাড়ি সাতক্ষীরার খানপুরে শোকের মাতম

এম. বেলাল হোসাইন, সাতক্ষীরাঃ  ঢাবি’র মেধাবী ছাত্রী মাশহুদা খাতুনের বাবার বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খানপুর গ্রামে এখন চলছে শোকের মাতম। মাত্র ৬ মাস আগে স্বামী হারানোর পর কন্যাকে হারিয়ে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নিহত মাশহুদার বৃদ্ধ মাতা আয়শা খাতুন। মরহুম পীর পিতার অগনিত ভক্ত ও পরিবারের সদস্যসহ ছোট ছোট চার ভাই বনের আহাজারিতে খানপুর গ্রামের আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। পুরো গ্রামজুড়ে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ খানপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে পৌছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী মাশহুদার লাশ একনজর দেখার জন্য খানপুর গ্রামে ভীড় জমায় খ্যাতনামা প্রায়ত পীর আবুল হাসান সাহেবের অগনিত ভক্ত ও মুরিদানসহ সহাস্রাধিক লোকজন। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরার খানপুরে ছুটে আসেন নিহতের কয়েক সহপাঠিসহ শিক্ষকরা। জানাজা নামাজ শেষে রাত ৯টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার জানাজায়  এলাকার সহাস্রাদিক মুসল্লী শরিক হন।

মাশহুদার শোকাতুর মা আয়েশা বেগম আফসোস করে বলছেন কেন যে সেদিন মেয়েটিকে থাকতে পাঠিয়েছিলাম ওই ঘরে। মেয়ে আমার আগেই বলেছিল ‘মা আমাকে ওর ঘরে পাঠিও না । ও আমাকে খুন করে ফেলবে’।

নিহত মাশহুদার বিমাতা ভাই মহসেন আল মঞ্জুর বলেন এক বছর আগে ওদের বিয়ে হয়েছিল।  কুদ্দুসের পারিবারিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় তার ও মাশহুদার লেখাপড়ার খরচ ‘আমরাই বহন করে আসছিলাম’। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় যাওয়ার কিছুদিন পর থেকে কুদ্দুস একটি বাসা নিয়ে দুজনে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করে। এরই মধ্যে বাবা পীর হজরত আবুল হাসান ইন্তেকাল করেন। পিতা মারা যাওয়ার পর আর্থিক সংকট থাকায় আমরা তার প্রস্তাবে সম্মত হইনি। ঢাকায় যাওয়ার পর মাশহুদা রোকেয়া হলে তাকত। সেকারনে দু’জনের সঙ্গে যোগাযোগ হতো কম। এসবের কারনে প্রতিশোধ নিতে কুদ্দুস মাশহুদাকে হত্যা করেছে বলে জানান তিনি।

মাশহুদার পিতার খুব ঘনিষ্ট মাওঃ আব্দুল কাদের জানান, ১২ বছরের শিক্ষাজীবনে মাশহুদা খাতুন কখনও ক্লাসে প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হয়নি। সে ছিল একজন মেধাবী ছাত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় ৩৫ তম স্থান অধিকার করেছিল সে। দাখিল ও আলিমে জিপিএ-৫ পাওয়া মাশহুদা সবসময় লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। তিনি বলেন মাশহুদার স্বামী আব্দুল কুদ্দুসও একজন মেধাবী ছাত্র। সাতক্ষীরার ধূলিহরের খাদিজাতুল কোবরা মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিমে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া কুদ্দুস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করতো। থাকতো বঙ্গবন্ধু হলের ১২১ নম্বর কক্ষে। পর্দানশীল মেয়ে মাশহুদা কুদ্দুসের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল শুধুমাত্র তার মেধার জন্য।

মাশহুদার সহপাঠি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র  গোপালগঞ্জ জেলার তৌহিদুর রহমান তাজ, নরসিংদীর রকিবুল হক সৌরভ ও টাঙ্গাইলের রফিকুল ইসলাম গতকাল রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে মাশহুদার হত্যাকান্ড সম্পর্কে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তারা হত্যাকারি ঘাতক স্বামী আব্দুল কুদ্দুসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ হত্যা মামলা রেকড করা নিয়ে ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছে। নিহতের চাচা আব্দুল্লাহিল গালিব এর দেয়া এজাহার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম দুই বার ছিড়ে ফেলেছেন।  পরে তিনি নিজে এজাহার লিখে মামলা রেকড করান। তারা অভিযোগ করে বলেন, পাইকগাছার ধণ্যার্ঢ্য মাছ ব্যবসায়ী ফসিয়ার রহমান হত্যাকারিকে সেভ করার চেষ্টা করছেন। সহপাঠিরা মামলার ভবিষ্যত নিয়ে উব্দেগ প্রকাশ করে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তারা বলেন, ক্লাসের ১৩০ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মাশহুদা ছিল সবচেয়ে ভদ্র, পর্দানশীন, নামাজি ও মৃদুভাষী। সহপাঠী হিসাবে মাশহুদা ছিল ক্লাসের সব ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের অত্যন্ত প্রিয়। রোকেয়া হলের বাসিন্দা মাশহুদা সুলতানাকে তার বান্ধবীরাও জানতেন খুব ভাল মেয়ে হিসাবে।

পরিবারের লোকজন বলেন, ঢাকায় থাকতে  কুদ্দুস প্রায়ই মাশহুদার কাছে ফোন করে দেখা করার কথা বলতো। কিন্তু সে রাজী না হওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হত। মাশহুদা একথা তার মা আয়েশা খাতুন ও ভাই মহসেনকে জানিয়েছিল। কুদ্দুস মাশহুদাকে তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলেও তাতে বাধ সাধে ভাই । বলেছিলেন অভিভাবকরা এলে পাঠানো হবে। এরই মধ্যে কুদ্দুস শ্বশুরবাড়ি এসে মাশহুদাকে খুন করে গেল।

মাশহুদার মা জানান, শুক্রবার রাতে জামাই কুদ্দুসের পীড়াপীড়ির মুখে তিনি মেয়েকে ওই ঘরে যেতে সম্মতি দেন। এসময় মাশহুদা মাকে বলেছিল, আমাকে ওই ঘরে পাঠাবেন না ও আমাকে খুন করে ফেলবে। রাতে ওই ঘরে ঘুমুতে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরই এক পর্যায়ে কুদ্দুস তাকে হত্যা করে।

প্রসঙ্গতঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্রী মাশহুদা খাতুন (২৩) কে শনিবার ভোরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার ঘাতক স্বামী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আব্দুল কু্দ্দুস(২৪)। স্ত্রীকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী কুদ্দুস সকালে সদর থানায় এসে পুলিশের কাছে দোষ স্বীকারের পর আত্মসর্মাপন করে। পুলিশ ঘাতক কুদ্দুসকে গ্রেফতার করে। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

 

 

 রিপোর্ট »রবিবার, ২৪ জুন , ২০১২. সময়-৯:৫৩ pm | বাংলা- 10 Ashar 1419
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP