Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

চাটমোহরে লিচু চাষীদের মুখে হাসি নেই

জাহাঙ্গীর আলম, পাবনা :

পাবনার চাটমোহর উপজেলার লিচু গ্রাম হিসেবে কয়েকটি গ্রাম সু-পরিচিতি অর্জন করেছে। এএলাকাতে লিচু এখন বানিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদ হচ্ছে। লিচু বর্তমান চড়া দামে বিক্রি হলেও বাগান চাষীদের মুখে হাসি নেই। চলতি মৌসুমে শিলা বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও প্রচন্ড খড়ায় এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয়েছে। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম রামচন্দ্রপুর, জালেশ্বর, মন্ডলপাড়া, গুনাইগাছা,  মল্লিকচক, পৈলানপুর, জাবরকোলসহ আশে-পাশের প্রায় ২০ গ্রাম লিচু এলাকা হিসেবে সু-পরিচিত ও বানিজিক এলাকা হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। এ অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের মাঠ পর মাঠ আবাদ হচ্ছে বানিজ্যিক ভিত্তিক লিচু।

চাটমোহর উপজেলার কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে এ উপজেলায় ১’শ ২ হেক্টর জমিতে লিচু চাষাবাদ হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজামান জানান, লিচু আবাদে খরচ কম এবং অধিক পরিমান আয়ের সম্ভবনা থাকায় উপজেলার কৃষকেরা লিচু আবাদের প্রতি ঝুকে পড়েছে। স্থানীয় চাষীদের সাথে আলাপকালে জানান,  চলতি বছরে লিচুর মুকুল ব্যাপক আসাতে লিচু চাষীরা মনে করেছিলেন গত বারের মত বাম্পার ফলন হবে। কিন্তু এর ঘটনা সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে প্রতীয়মান হয়েছে। পরপর ২/৩ বার প্রাকৃতিক শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে লিচু বাগানের ক্ষতি হয়েছে।

অপরদিকে, প্রচন্ড খড়তাপে মুকুলসহ লিচুর গুটি ঝড়ে পড়ায় ফলনের পরিমান ব্যাপক কমে গেছে। যার কারনে প্রায় শতাধিক বাগানের মালিকরা লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বাগান মালিকরা জানান, তাদের মনমত এবার বাহিরের ব্যাপারীদের কাছে বাগান বিক্রি করতে পারেনি। এ অঞ্চলের লিচু বাগান যারা পূর্বে অগ্রিম টাকা দিয়ে কিনেছেন তাদের বেশির ভাগই লোকসান গুনতে হয়েছে। উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ চাষী মোঃ ওয়াজেদ আলী মাস্টার, আঃ মজিদসহ কয়েকজন জানান, প্রচন্ড খড়তাপে ও শিলা বৃষ্টির কারনে লিচুর ফলন তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। তাই কম দামে বাগান বিক্রি করতে হয়েছে। তাছাড়া যে সকল বাগান লাখ টাকায় বিক্রি হত সেগুলো মাত্র ২০/৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত বছরে এঅঞ্চল থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হলেও এবার কত টাকা বিক্রি হবে তা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারছে না।

আবার কেউ কেউ বলছেন, এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়েছে। তবে লিচু চাষীদের দাবী শিলা বৃষ্টি ও প্রচন্ড খড়তাপে মুকুল ঝড়ে না গেলে এ বছর এএলাকা থেকে ৬ কোটি টাকার বেশি লিচু বিক্রির সম্ভবনা ছিলো। স্থানীয় লিচু চাষীরা আরো জানান, এঅঞ্চলে ব্যাপক পরিনামে লিচুর আবাদ হলেও সর্ব প্রথমে কে লিচু চাষাবাদ করেছেন তার সঠিক ইতিহাস কেউ বলতে পারেনি। তবে যতটুকু জানা যায়, উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের জালেশ্বর মন্ডলপাড়া গ্রামের প্রয়াত খোকা মন্ডল প্রায় ৩৩ বছর পূর্বে প্রথমে লিচু বাগান করেন। তার এই ধারাবাহিকতায় পর্যায় ক্রমে লিচু চাষাবাদের পরিমান আরো বাড়তে থাকে।

বর্তমান উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বানিজ্যিক ভাবে লিচু আবাদ হচ্ছে। এখান থেকে দেশি লিচু চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। লিচু চাষী মাহতাব উদ্দিন জানান, এখানে লিচু বাগান ২০ হাজার থেকে ৪/৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে এবার সম্পূর্ণ বিপরীত হয়েছে। লিচু চাষী মোঃ ওয়াজেদ আলী মাষ্টার, লিয়াকত আলী পেন্টু ও জামাল হোসেন জানান, এ মৌসুমে লিচু রক্ষা করতে রাতভর পাহাড়া দিতে হয়। অন্যথায় বাদুরের ঝাঁক এসে লিচু খেয়ে সাফ করে ফেলে। বাগান মালিক রামচন্দ্রপুর গ্রামের তায়জাল সরদার ২ লাখ, আব্দুর রহমান ১ লাখ ২০ হাজার, সানোয়ার হোসেন ১ লাখ ৫০ হাজার, মোহাম্মদ আলী ১ লাখ ৫০ হাজার, জালেশ্বর গ্রামের ইব্রাহীম হোসেন ২ লাখ, আঃ মতিন সরদার ১ লাখ ২০ হাজার, কুমারগাড়া গ্রামের আঃ মজিদ ৪ লাখ, জাবরকোল গ্রামের নজরুল ইসলাম ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।

তাছাড়া জহুরুল হক, খলিলুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, মাসুদ রানা, গোলাম মোস্তফা, মর্তোজা হোসেন, আব্দুল করিমসহ অনেকেই লিচু বাগান বিক্রি করে কম বেশি সফলতা পেয়েছেন। লিচু কিনতে আসা ব্যাপারী আওতাপাড়া এলাকার মোঃ আলাউদ্দিন, জহুরুল ইসলাম, সায়দার হোসেন ও শাহিন হোসেন জানান, তারা প্রতি বছরের ন্যায় বড় বড় লিচু বাগান ১ লাখ থেকে ৫ লাখ পর্যন্ত প্রায় অর্ধ কোটি টাকার বাগান কিনেছেন। এই লিচু তারা মালবাহী ট্রাকে লোড দিয়ে চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া, খুলনা, বাগেরহাট, ঢাকা, বরিশাল, কুমিল্লা, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন।

তারা আরো জানান, বাগানে লিচুর ফলন কম হওয়ায় লোকসানে আশংঙ্কায় রয়েছেন। বিশিষ্ঠ লিচু ব্যাপারী মোঃ আবুল হোসেন জানান, গত বছরে এ অঞ্চল থেকে ৫ কোটি টাকার ওপরে লিচু বিক্রি হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যাপারীরা এসে লিচু কেনার জন্য ভিড় জমাতো। প্রতিদিন ট্রাক ভর্তি লিচু ব্যাপারীরা কিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত। কিন্তু এবছর তেমন লিচু ব্যবসার প্রসার লক্ষ্য করা যায়নি। এবার নিম্ন শ্রেণীর লিচু হাজার প্রতি ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা এবং ভালো লিচু ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রওশন আলম জানান,  উপজেলার কৃষকেরা ধান, গম ও মৌসুমী ফসল আবাদ করলেও খরচ বাদে সর্বচ্চ ৫/৭ হাজার টাকা লাভবান হয়। কিন্তু ১বিঘা জমিতে লিচু বাগান করে চাষীরা প্রতি বছরে লক্ষ্যাধিক টাকা আয় করার ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। তাছাড়া লিচু বাগানের কৃষকেরা হলুদসহ অন্যান্য ফসলাদি চাষাবাদের সুয়োগ রয়েছে। খরচ নেই বললেই চলে। যার কারনে কৃষকেরা সহজেই লিচু চাষাবাদের পরিমান ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভৌগোলিক পরিবেশের অবস্থানের উপর লিচু বাগান অনেকটা নির্ভর করে। এ এলাকায় চায়না থ্রী, বোম্বাই লিচু ফলন ভালো হয়।

তিনি বাগান চাষীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, কৃষকেরা লিচুর মুকুল আসার আগেই বাগান বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু এক শ্রেণীর অর্থলোভী ব্যাপারীরা বাগানের অধিক ফলন লাভের আশায় বিষাক্ত হরমোন ব্যবহার করছে। এতে লিচু গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। গাছ খুব দ্রুত বৃদ্ধ হয়ে যায়। তিনি কৃষকদের এব্যাপারে সতর্ক হওয়ায় পরামর্শ দিয়েছেন।

 

 রিপোর্ট »শুক্রবার, ১৮ মে , ২০১২. সময়-৪:০৩ pm | বাংলা- 4 Joishtho 1419
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP