Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

ফেনী নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে মিরসরাই উপজেলা

মিরসরাই(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:

ফেনী নদী ভাঙছে। বছরের পর বছর এ ভাঙনে নদীর পেটে হারিয়েছে অসংখ্য বসতভিটা এবং কৃষিজমি। বিলীন হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বহু স্মৃতিবিজড়িত আমলীঘাট বাজার। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া ব্লক টিকছে না বেশিদিন। ভাঙন কবলিত মানুষের পুনর্বাসন এবং শক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সরকারের কোনো উদ্যোগও নেই।বর্তমান সময়ের আলোচিত ফেনী নদী বছরের পর বছর গিলে খাচ্ছে বাড়িঘর ফসলি জমি। গত এক দশকে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অনেক বাড়িঘর  ফসলি জমি। বাড়িঘর হারিয়ে অনেক এখন নিঃস্ব।  ভাঙনের কবলে নদীগর্ভে বিলীন হয় সবই। প্রকৃতির এই নির্মম সত্যের প্রতিফলন ঘটছে মিরসরাইয়ে।

বর্ষাকালের প্রবল বর্ষণের পাশাপাশি ভাঙনের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন। এখানেও সরকারের কোনো নজরদারি না থাকার খবর পাওয়া গেছে। কৃষিজমির পাশাপাশি বসতভিটা হারিয়ে গৃহহারা হচ্ছেন অনেকেই। তাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় না বলে অতি কষ্টে কাটছে তাদের পরবর্তী জীবন। সরেজমিন অনুসন্ধানে ভাঙনের নানা দৃশ্য ও এর কারণ জানা গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেনী নদীর ভাঙনের সবচে বেশি শিকার মিরসরাইয়ের চার নম্বর ধুম ইউনিয়নের মোবারকঘোনা ও শুক্কুরবারইয়াহাট গ্রাম। ভাঙন কবলিত এ দুই গ্রামের হাজারো মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে মাথাগোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন। কেউ রাসত্মার পাশে ঝুঁপড়িতে, কেউবা বসিত্মতে। রোদ-বৃষ্টি এদের জীবনে সমানে সমান। উদ্বাসত্মু শিবিরের অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকির মধ্যে। কেবল এ দুই গ্রাম নয়, ফেনী নদীর পেটে মিলে গেছে করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর, আমলীঘাট, পশ্চিম জোয়ার; হিংগুলী ইউনিয়নের আজমনগর গ্রামের অসংখ্য বাড়িঘর।

করেরহাটের অলিনগর ও আমলীঘাট এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাইপের মাধ্যমে অবিরাম চলছে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কাজ। আমলীঘাট এলাকায় কয়েকটি স্থানে বসানো ব্লক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর অলিনগরে কোনো ব্লক না থাকায় ভাঙনের গতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিমূহুর্তেই ভেঙে নদীর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি। সব স্থানেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে পাইপের মাধ্যমে। নদীর তলদেশ থেকে সংগ্রহ করে ওপরে সত্মুপ করে রাখা পর্যমত্ম নানা প্রক্রিয়ায় কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। নদীর মধ্যবর্তী স্থানের ন্যায় ধারের বালু উত্তোলন করার ফলে ভাঙনের সূত্রপাত ঘটে।

বালু উত্তোলন শ্রমিক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘‘নদীর ধার থেকেও বালু উত্তোলন করা হয়। এখানে কখনো সরকারের কোনো তদারকি কর্মকর্তাও আসেন না।’’

আমলীঘাট এলাকায় নদীর ধারেই বসতঘর রাবেয়ার। তিনি বলেন, ‘‘প্রতিদিন চেয়ে চেয়ে দেখি আর দিন গুণি।’’নদীগর্ভে বসতভিটা বিলিয়ে যাওয়ার পর কোথায় আশ্রয় হবে এমন কথা শুনতেই আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ওপরওয়ালা ছাড়া কেউ জানে না।’’অলিনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. আহসান উল্যাহ (৭০) বলেন, ‘‘ওই যে বইয়ে আছে না, নদীর একূল ভাঙে, ওকূল গড়ে। ঠিক তেমনই হচ্ছে ফেনী নদীতে।’’ অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহামায়া সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প এলাকার পাহাড়গুলোতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশ ভাঙন কবলিত। অলিনগর, গুচ্ছগ্রাম, মোবারকঘোনাসহ বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পগুলোতে তাদের ঠাঁই হয়নি। সেখানে আশ্রয় পেতেছে প্রভাবশালী চক্র। পূর্ব দুর্গাপুর এলাকায় পাহাড়ে বসবাসরত বাসিন্দা আবুল হোসেন ও নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘ভাঙনে যখন বসতভিটা হারিয়ে পথে বসে যাই, তখন অনেক চেষ্টা করেও আবাসন প্রকল্পে বসবাসের সুযোগ পাইনি। পরবর্তী বিভিন্ন সময় পথের ধারে অস্থায়ী তাঁবু টানিয়ে রাত কাটিয়েছি। গত আট বছর ধরে বাস করছি পাহাড়ের পাদদেশে।’’ফেনী নদীর ভাঙন রোধে গত বছর উদ্যোগ নিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ওই বছরের ২৫ জুলাই  ৩৬ লাখ টাকার ড্যাম্পিং কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু কাজে নিম্নমান ও ব্লক মানসম্মত না হওয়ায় সেই প্রতিরোধক ব্যবস্থাও ভেসেত্ম যায়। ফলে ভাঙন চলতে থাকে আগের ন্যায়। বর্তমানে ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের নতুন কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানালেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদ্বয়। কৃষিজমি ও বসতভিটা নদীর পেটে চলে যাচ্ছে স্বীকার করে তারা জানিয়েছেন, সরকারের উচিৎ এখনই শক্ত প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেয়া। ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘প্রায় ছয় মাস পূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনের চিত্র সরেজমিন প্রত্যক্ষ করে গেছেন। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেও এখনো এর কোনো বাসত্মব চিত্র চোখে পড়েনি।’’ধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক ইসমত জামসেদী বলেন, স্রোতের সাথে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে নদী। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা এখনো আসেননি।

 রিপোর্ট »শনিবার, ১৭ মার্চ , ২০১২. সময়-১০:২৭ pm | বাংলা- 3 Chaitro 1418
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP