Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

ঢেকলাপাড়া চা বাগানে অনাহারে মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলীয় ডুয়ার্স এলাকার ঢেকলাপাড়া চা বাগানে গত ডিসেম্বর মাস থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত এগারো জন বাগান শ্রমিক অনাহারে মারা গেছেন৻

দশ বছর ধরে বন্ধ ওই চা বাগানে মানুষ অভাবের তাড়নায় চাগাছের তেতো ফুল ভাজা, বা জঙ্গলের কচু আর রেশনে পাওয়া কাঁকড় ভর্তি চালের ভাত, দিনে একবার রান্না করে খেয়ে বেঁচে আছে৻ তবুও সরকারি ডাক্তাররা ওই বাগান শ্রমিকদের মধ্যে অপুষ্টি দেখতে পান নি৻বাসন্তী মুন্ডা, সুন্নি তাঁতি, পুষ্পা তাঁতির মতো আরও কয়েকজন সদ্য বিধবা হয়েছেন৻অন্যদেরও প্রায় একই কথা৻কিন্তু সরকার আগের মতোই, এবারও, অনাহারে মৃত্যুর কথা অস্বীকার করছে৻ওই অঞ্চলের প্রশাসনিক আধিকারিক, বিডিও, হীরক মন্ডল সরকারি নথি দেখে জানিয়েছিলেন যে অতিরিক্ত মদ্যপানের জন্য বিজয় তাঁতির লিভার সিরোসিস হয়েছিল৻মি. মন্ডলের কথায়, ঢেকলাপাড়ার আরেক শ্রমিক, সুশীল তাঁতিরও নাকি মৃত্যু হয়েছিল লিভার সিরোসিসের জন্য৻বিডিও-র কথার যেভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন বিজয় তাঁতির স্ত্রী, সেই একইভাবে সরকারি ভাষ্যের বিরোধিতা করলেন সুশীল তাঁতির পুত্র কালিচরন তাঁতিও৻মি. কালিচরন তাঁতির কথায়, “খাবার কেনার পয়সা নেই.. কোথা থেকে মদ কিনবে? বাগান যখন খোলা ছিল, তখন হয়ত বাবা মদ খেত – কিন্তু তারপরে দশ বছর ধরে তো খাবারেরই পয়সা নেই”৻ঢেকলাপাড়া চা বাগানের মানুষের কাছে জানতে চেয়েছিলাম বাগান বন্ধ – কীভাবে চলছে সংসার?তাঁদের সকলের একই কথা, “একবার সকাল আর আরেকবার সন্ধ্যা এই দুবেলা খাবার জোটে৻ তবে রান্না হয় একবারই..– তাও শুধু ভাত, যাতে জল বেশি আর সামান্য কিছুটা চাল, সঙ্গে জঙ্গল থেকে কুড়িয়ে আনা কিছু কচু বা কোনও শাক৻”

চা বাগানের ঘন সবুজ গাছগুলোর মধ্যে দিয়ে হাঁটার সময়ে দেখা হয়েছিল দুজন মহিলার সঙ্গে। কিছু একটা খুঁজছিলেন তাঁরা৻একজন মহিলা বলছিলেন “চাগাছের ফুল খুঁজছি৻ তরকারী বানিয়ে খাব৻ ফুলটা বেশ তেতো.. তাও খাই আমরা৻ অন্য কোনও তরকারি তো নেই, তাই এই সবই খাই৻”এইসব খেয়ে বেঁচে থাকলেও সরকার বলছে, অপুষ্টি নাকি নেই ঢেকলাপাড়া চা বাগানে৻স্থানীয় বীরপাড়া সরকারি হাসপাতালের প্রধান, ডা. জয়দেব বর্মন বলছিলেন, “ওই অঞ্চলের যেসব মানুষের চিকিৎসা করেছি, তাঁদের মধ্যে সাধারণ অসুখই পাওয়া গেছে৻ দেখে মনে হয় নি কেউ অপুষ্টি বা অনাহারে ভুগছেন৻”সরকার যদিও অনাহার বা অপুষ্টির কথা স্বীকার করছে না, তবে বাগান মালিকরাও মানছেন যে চা বাগানের অর্থনীতি এমনভাবেই চলে যে বাগান কোনও কারণে বন্ধ হয়ে গেলে গোটা এলাকায় গভীর সঙ্কট নেমে আসে৻বাগান বন্ধ, কিন্তু পেটের আগুন তো বন্ধ হয় না। তাই ঢেকলাপাড়ার মানুষদের ডিমডিমা বা রেতি নদীগুলোর শুকনো নদীখাতে পাথর খোঁড়ার কাজ করতে যেতে হয় – মহিলা, পুরুষ, কিশোর সবাইকে৻উনিশ বছরের কিশোর আসিল খাড়িয়ার মা রঙ্গি খাড়িয়া মারা গেছেন। বাবা মারা গেছেন আরও আগে। তাই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে পাথর ঝাড়নির কাজে লেগে পড়েছেন আসিল৻“ঘরে রোজগার করার মতো কেউ নেই৻ খেতে তো হবে৻ তাই কাজ পড়াশুনো ছেড়ে কাজে আসতে হয়েছে৻ নদী থেকে পাথর তুলে সেগুলো বাছাই করে বিক্রি করি৻ সারাদিন খাটতে পারলে ৩৫-৪০ টাকার মতো পাওয়া যায়৻”ঢেকলাপাড়ায় ফাউলাই যোজনা – যার অধীনে বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের মাসোহারা দেওয়া হয়, তার ডিসেম্বর অবধি সব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে৻হীরক মন্ডল, প্রশাসনিক আধিকারিকবীরপাড়ার প্রশাসনিক আধিকারিক হীরক মন্ডলের দাবী “ঢেকলাপাড়ায় ফাউলাই যোজনা – যার অধীনে বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের মাসোহারা দেওয়া হয়, তার ডিসেম্বর অবধি সব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে৻ গ্রামীন রোজগার যোজনাতেও ওখানকার মানুষ কাজ পাচ্ছেন৻”কিন্তু চা বাগানের মানুষরা বলছেন, “ফাউলাই যোজনার টাকা বহু দিন পাওয়া যায় নি৻ গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে ১৪ দিন মতো কাজ পাওয়া যায়৻ পরিবার পিছু ৫ কেজি চাল, ৪ কিলো গম, এক লিটার কেরসিন তেল পাওয়া যায়. প্রতি সপ্তাহে –এই দিয়ে কি তিনবেলা খাওয়া জোটে ঘরের সবার”?ঢেকলাপাড়ায় অনাহারে মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পরে সরকারের যতটা তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, সেটা বাগান বন্ধ হওয়ার সময় থেকে গত দশ বছরে কারোরই চোখে পড়ে নি৻সেই সময়ে যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, সেই বামফ্রন্টের নেতা-মন্ত্রী-জনপ্রতিনিধিদের একবারও সময় হয় নি ওই বাগানটায় যাওয়ার৻ তাই রাজ্যের বিরোধীদলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র যখন সম্প্রতি ঢেকলাপাড়া চা বাগানে যান, স্থানীয় মানুষরা নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন৻উত্তর বঙ্গের চাবাগানগুলি শ্রমিক সংগঠনগুলির কোঅর্ডিনেশন কমিটির নেতা ও বর্ষীয়ান ট্রেড ইউনিয়ন নেতা চিত্ত দে বললেন “ঢেকলাপাড়া বাগানের মানুষদের রোগে ভুগে মৃত্যু হয় নি৻ তারা না খেতে পেয়ে মারা গেছে৻ আর এই দুরবস্থার জন্য রাজনৈতিক দল, রাজ্য সরকার, টি বোর্ড, কেউই নিজেদের দায় অস্বীকার করতে পারে না৻”একশো বছরের পুরনো ঢেকলাপাড়া চা বাগানের গাছগুলোতে কচি পাতা এসে গেছে.. পাতা তোলার সময় শুরু হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যেই। অন্য চালু বাগানগুলোতে যখন শ্রমিকরা গাছের যত্ন নিতে ব্যস্ত, তখন ঢেকলাপাড়ার গাছগুলো অযত্নে পড়ে রয়েছে বাগানের মানুষগুলোর মতোই৻  বিবিসি বাংলা এর সৌজন্যে

 রিপোর্ট »বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ , ২০১২. সময়-১০:১০ pm | বাংলা- 25 Falgun 1418
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP