Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

ভবঘুরে শকুনের বন্দিদশা

মুহাম্মদ দিদারুল আলম, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

দেশের বিলুপ্ত প্রজাতির একটি শকুন মূমুর্ষু অবস্থায় আটকে আছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার লোকালয়ে। তীব্র শীতের মধ্যে অনাহারে দীর্ঘ নয়দিন ধরে শকুনটি বাঁধা থাকলেও কোথাও এর ঠাঁই হচ্ছে না। উপরন্তু উৎসুক মানুষের মনযোগ এখন এই পাখিটি নিয়ে। পাখিটিকে উপযুক্ত স্থানে ছেড়ে দিতে অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে চায় এলাকাবাসী।

মিরসরাইয়ের ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের পূর্ব রহমতাবাদ গ্রামের বাশার মেম্বারের ব্রিজ সংলগ্ন দোকানের পাশে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে শকুনটি। স্থানীয় লোকজন বিলুপ্ত প্রজাতির এই প্রাণীর পরিচয় জানে না। এলাকার বাসিন্দা মো. শরফুদ্দীনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাখিটি ঘিরে রেখেছে উৎসুক মানুষ। এটি নিয়ে সকলের যেমন রয়েছে কৌতূহল, তেমনি প্রকাশ করেছেন শংকাও। নয়দিন ধরে কিছুই না খাওয়া পাখিটি শীতের মধ্যে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

পাখিটির ছবি তুলে পাঠালে বিশিষ্ট প্রাণীবিদ্যা গবেষক সাজিদ আলী হাওলাদার বলেন, পাখিটির নাম শকুন বা ইউরাসিয়ান গ্রিফ্ফন।এর বৈজ্ঞানিক নাম Gyps fulvus. এটি বাংলাদেশে একটি পরিজেয় পাখি হিসেবে পরিচিত। সারা বিশ্বে ২২ প্রজাতির শকুন দেখা যায়। আর বাংলাদেশে রয়েছে ছয়-সাত প্রজাতির।

বিখ্যাত জার্নাল ন্যাচারে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ মতে, মানুষ এবং গবাদিপশুর ওপর ডিক্লোফেনেক (Diclofenac) জাতীয় মেডিসিন ব্যাপকভাবে প্রয়োগের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় শকুনের সংখ্যা গত ১০-১৫ বছরের ব্যাবধানে ব্যাপক হারে কমে গেছে। বাংলাদেশে শকুন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

ইউরাসিয়ান গ্রিফ্ফন, ফর্কটাইলসহ (Forktail) বিভিন্ন গবেষণা গ্রন্থ থেকে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে সিলেট অঞ্চলের জুড়ী নামক এলাকায় দ্বিতীয়বারের মত এই পাখির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থানে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

মিরসরাইয়ের রহমতাবাদ গ্রামের লাতু বলীর বাড়িতে গত ১৬ ডিসেম্বর ধরা পড়ে এ পাখিটি। গ্রামের ছেলেরা কৌতূহলের বশে পাখিটি ধরে বেঁধে ফেলে। ওই বাড়ির বাসিন্দা চাষী আবুল হোসেন বলেন, ‘টানা চারদিন ওই বাড়িতে বেঁধে রাখা হয়েছিল পাখিটি। কেউ এর দায়িত্ব না নিলে দোকানের পাশে এনে বেঁধে রাখা হয়।’

স্থানীয় শিক্ষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘একটানা নয়দিন ধরে পাখিটি বাঁধা পড়ে আছে। কিছুই খায় না পাখিটি। তীব্র শীতের মধ্যে অনাহারে থাকা এ পাখিটি জীবন-মৃত্যুর মাঝামাঝিতে অবস্থান করছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ এটি সংরক্ষণ করতে পারে।’

শকুন ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে মানুষকে নানা রোগ-বালাই থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিলুপ্ত প্রজাতির পাখিটি রক্ষায় পাশ্ববর্তী ভারত ও নেপাল সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে তেমন কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। বাংলাদেশে শকুন আশংকাজনক হারে কমে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দেশের অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মত শকুন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে অদৃষ্টের হাতে। খুব শিগগিরই এই পাখি সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এর বিলুপ্তি অনিবার্য বলেও মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের।

সাজিদ আলী হাওলাদার চলতি বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণী বিদ্যা বিভাগে মাষ্টার্স সম্পন্ন করেছেন। ফিনল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণী বিদ্যায় পিএইচডি করবেন।

পাকিস্তানের প্রাণী বিষয়ক প্রবন্ধ ‘ন্যাচার’ এর ৪২৭ নম্বর ভলিয়ম, প্রকাশিত হয়েছে ২০০৪ সালে।

ফোর্কটাইল প্রকাশিত হয়েছে ২০০৩ সালে।প্রতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস পালিত হয়।সাজিদ আলী হাওলাদার আরো বলেন, বাংলাদেশে এ পাখি নিয়ে কোন গবেষণা হয় না। ফলে এর বিলুপ্তির চিত্র ততোটা ফুটে ওঠে না। তবে এখনো এই পাখি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়নি।

এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মিরসরাই উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, রহমতাবাদ এলাকায় শকুন বেঁধে রাখার খবর আমি পাইনি। তা ছাড়া বিষয়টি দেখবে বন বিভাগ। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কোন সংশি­ষ্টতা এখানে নেই।তবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মিরসরাই উপজেলা উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৭১৬১৬৮৭৯২) তাকে পাওয়া যায়নি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাঈদ কুতুব বলেন, পাখিটি ছেড়ে দেওয়া উচিত। কারণ এভাবে পড়ে থাকলে এটি মারাও যেতে পারে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই পাখিটি ছেড়ে দিলে ভাল হবে বলেও মন্তব্য তার।

 রিপোর্ট »সোমবার, ২৬ ডিসেম্বার , ২০১১. সময়-৮:৩০ pm | বাংলা- 12 Poush 1418
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP