Breaking »

Warning: include(/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php): failed to open stream: No such file or directory in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

Warning: include(): Failed opening '/home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single-sidebar.php' for inclusion (include_path='.:/usr/lib/php:/usr/local/lib/php') in /home/shesherk/public_html/wp-content/themes/shesherkhobor/single.php(2) : eval()'d code(1) : eval()'d code on line 2

সরকারী নিয়মনীতির বালাই নেই ! পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলে কিন্ডার গার্টেন স্কুলের নামে লাখ লাখ অর্থ বানিজ্য

জাহাঙ্গীর আলম,পাবনা থেকে :

‘সরকারী নিয়ম নীতির বালাই নেই’ পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের গ্রাম-গঞ্জের আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার কিন্ডার গার্টেন স্কুল। এসব প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা কমিশনের ভারে এবং নানা কৌশলে চাপিয়ে দেয়া তথা কথিত নিয়মনীতিতে নূহ্য হয়ে পড়েছে। এক শ্রেনীর মুনাফা লোভী ব্যক্তি স্বঘোষিত প্রিন্সিপাল সেজে কিন্ডার গার্টেন নামের এসব প্রতিষ্ঠান খুলে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। সরকারের সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি না থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু এগুলো দেখার যেন কেই নেই!

বিভিন্ন সুত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দু’দশক ধরে পাবনা জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার অলিতে গলিতে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা দেয়ার কথা বলে হাজার হাজার কিন্ডার গার্টেন নামের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এক শ্রেনীর শিক্ষিত বেকার ও অর্ধ শিক্ষিত যুবকেরা স্বল্প বিনিয়েগে অধিক লাভ ভেবে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। শিক্ষার কথা বললেও মূলতঃ তারা এসবকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারী কোন নিয়মনীতি মেনে চলা হয় না।

নেই কোন স্কুল পরিচালনা পরিষদ। শহরের কোথায়ও একটি বাড়ি বা ঘর ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ড  ঝুলিয়ে এবং কিছু সংখ্যক শিক্ষিত বেকার বা অধ্যয়নরত কলেজ পড়ুয়া সুন্দরী মেয়েদের নামমাত্র বেতনে নিয়োগ দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। শুধু শহরেই নয়, এখন গ্রামগঞ্জের আনাচে কানাচে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে। এসব স্কুলের মালিক নিজেই প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার ইচ্ছানুযায়ী নির্ধারন করেন ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন।

অধিকাংশ স্কুলেই পেস্ন থেকে তয় শ্রেনী পর্যন্ত শিশুদের পড়ানো হয়। প্লে ক্লাশে একজন শিশুর ভর্তি ফি ৬ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং প্রতি মাসে মাসিক বেতন ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা দিতে হয়। অধিক লাভের কথা চিন্তা করেই অনেক কিন্ডার গার্টেনে ডাবল শিফট রয়েছে। ফলে একই খরচে লাভের পরিমান দাঁড়ায় দ্বিগুনে। প্রতি শিফটে ক্লাশ হয় আড়াই ঘন্টা ধরে। অনেকে আবার অধিক লাভ দেখে বিভিন্ন নামে ৩/৪টি কিন্ডার গার্টেন খুলে বসেছেন।

এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থেকে শুরু করে পোশাক, সোয়েটার, টাই, জুতা, খাতা, বই সব ক্ষেত্রে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট দোকানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মালিক বা প্রিন্সিপাল কমিশন নিয়ে থাকেন। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কিন্ডার গার্টেনের মালিক নিজেই এসব উপকরন তৈরী করে তা অধিক দামে বিক্রি করেন শিক্ষার্থীদের কাছে। পাবনায় যে সব কিন্ডার গার্টেন শীর্ষে তাদের মধ্যে পাবনা স্কয়ার কিন্ডার গার্টেন, পাথ ফেয়ার কিন্ডার গার্টেন, গ্রীন লীফ কিন্ডার গার্টেন, ব্লু বার্ড কিন্ডার গার্টেন, রেইন বো কিন্ডার গার্টেন, বর্ণমালা কিন্ডার গার্টেন, সিদ্দিক মেমোরিয়াল কিন্ডার গার্টেন, গোপালপুর শিশু শিক্ষা নিকেতন, সানরাইজ মনটেশ্বরী কিন্ডার গার্টেন, ইমাম গাজ্জালী, ক্যাডল বেবী, ডিসকভারী, ফুলকুঁড়ি, নিহীড বেবী স্কুল, লিটল বার্ড, লুলুয়া আমিন ইসলামি একাডেমী, রাইজং সান, কচিকাঁচা, মডার্ণ নলেজ প্রমুখ।

পাবনা পাথ ফেয়ার কিন্ডার গার্টেনের এক ছাত্রের অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, এ যেন মগের মুল্লুক দেখার কেউ নেই। গলা কেটে ফি নিয়ে ইচ্ছা মত চালানো হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। কোন অভিভাক কোন বিষয়ে অভিযোগ করলেই তার ছেলে মেয়েকে রাখা হয় কড়া নজরদারিতে। এজন্য বাচ্চাদের কথা ভেবে ভয়ে নীরবে অনেকেই অভিযোগ জানান না। জানালেও কোন লাভ হয় না।

অভিভাবক আশরাফুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে ঐ কিন্ডার গার্টেনে পেস্ন ক্লাশের ছাত্রী। তার মেয়েটা বাসায় পেস্নটের গায়ে লেগে থাকা পরিমান ভাত খাওয়াতে হয় জোর করে, সেই মেয়ের ক্যাম্পাসে পিকনিকের চাঁদা দিতে হয়েছে ৪৫০ টাকা। মান সম্মানের দিক চেয়ে টাকা দিয়েছি কিন্তু নেয়াটা ঠিক হয়নি। আসলে এসব প্রতিষ্ঠানে শি   ÿার চেয়ে ব্যবসার দিকটাই বেশি দেখা হয়। যেসব শিÿÿক নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের বেতন ৮০০ টাকা থেকে শুরম্ন করে ২ হাজার ৫০০ টাকা। আবার অনেক স্কুলে শিÿকদের বেতনের কথা বাইরে বলাও নিষেধ আছে। তিনি আরো জানান, একটি স্কুলের ঘর ভাড়া থেকে শুরম্ন করে শিক্ষকদের বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ মাসিক খরচ দিয়েও প্রিন্সিপাল মাসে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

কিন্ডার গার্টেনের বেতন নিয়ে কথা বলতেই এক ছাত্রের মা রীতা আজাদ জানান, স্কুল কলেজ লেভেলের ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক বেতন ৪০-৫০ টাকা, অনার্স ও মাষ্টার্সের বেতন যেখানে ৬০-৭০ টাকা সেখানে পেস্ন বা নার্সারীর মত ক্লাশের বেতন ৬০০-৭০০টাকা হয় কিভাবে ? তাছাড়া বিভিন্ন খাতের কথা বলেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। কেন এবং কিজন্য এত বেতন, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে কি এদের জবাবদিহিতা নেই। তিনি আরো জানান, অনেক অভিভাবক ছেলে মেয়েদের অনেক টাকায় ভর্তি ও বেশী বেতনের স্কুলে ভর্তি করাটা সামাজিক মর্যাদার ব্যাপার বলে মনে করে থাকেন।

পাবনা সরকারী মহিলা কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আখতার জামান জানান, শুধুমাত্র প্রকাশনী সংস্থার কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশনের জন্যই বাচ্চাদের উপর জটিল জটিল বই নির্ধারন করা হয়। বয়সানুযায়ী বই দিয়ে জটিল বই পড়ে শিশুরা মানসিকভাবে ঝিমিয়ে পড়ে। ফলে ভয়ে তাদের লেখাপড়া থেকে মন সরে যায়। প্রতষ্ঠানের মালিকদের ব্যবসায়িক মনোভাব থেকে বেড়িয়ে এসে শিÿা বিসত্মারের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা কিন্ডার গার্টেন এসোশিয়েশনের সভাপতি ফজলে মজিদ মুরাদ জানান, কিছু কিছু মুনাফা লোভী ব্যক্তির কারণে এসব কথা আসছে। এছাড়া সরকারী কোন নিয়মনীতি না থাকায় কোন কোন প্রতিষ্ঠান তাদের ইচ্ছামত ফি- বেতন আদায় করছে। সরকারী বিধি নিষেধ না থাকায় তারা এসব করতেও সাহস পাচ্ছেন বলে তিনি জানান। তিনি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের উপর সরকারের সুনির্দিষ্ট নিয়মেরও জোর দাবী জানান।

এ ব্যাপারে পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর রেজাউল ইসলাম জানান, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শ্রেনীর প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিজেকে অধ্যক্ষ বা প্রিন্সিপাল লিখতে পারেন। এইচএসসি বা ডিগ্রি পাস অনেক কিন্ডার গার্টেনের প্রধান নিজেকে প্রিন্সিপাল হিসেবে পরিচয় দেন, এটা তার বোধগম্য নয়। তার পদবী হবে প্রধান শিÿক। এরা টাকা ইনকামের জন্য পদ পদবীও কৌশলে পরিবর্তন করেছেন।

পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও উন্নয়ন) মোঃ আব্দুর রউফ জানান, সরকারের সুনির্দিষ্ট নিয়ম না থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারক মহল দিক নির্দেশনা দিলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

 

 

 রিপোর্ট »মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বার , ২০১১. সময়-৯:০৪ pm | বাংলা- 29 Agrohayon 1418
WEBSBD.NET
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!
EDITOR;ABUL HOSSAIN LITON, DHAKA OFFICE; NAHAR MONZILl,BOX NAGAR,DEMRA,DHAKA.OFFICE;MAHESHPUR,JHENAIDAH,BANGLADESH. Copyright © 2011 » All rights reserved http/shesherkhobor.com, MOB: 8801711245104,Email:shesherkhobor@gmail.com 
☼ Provided By  websbd.net  » System  Designed by HELAL .
GO TOP